দৃষ্টি, শ্রবণ, বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পবিত্র কোরআন শিক্ষা, মুখস্থ এবং তিলাওয়াতের সুযোগ বাড়াতে একটি বিশেষায়িত প্রকল্প চালু করেছে সিরিয়া। দামেস্কের আল-তিজারা এলাকার আল-কুসুর মসজিদে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে দামেস্কের ধর্মীয় ওয়াকফ অধিদপ্তর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্রের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ওসামা আব্দুল করিম আল-রিফাই এবং ধর্মীয় ওয়াকফমন্ত্রী মুহাম্মদ আবু আল-খায়ের শুকরি।
ধর্মীয় ওয়াকফ অধিদপ্তর জানায়, সমাজের কোনো মানুষ যেন প্রতিবন্ধকতার কারণে কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে না থাকেন—সে লক্ষ্যেই এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রয়োজন বিবেচনা করে বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি তৈরি করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা পবিত্র কোরআন শেখা, মুখস্থ করা ও সঠিকভাবে তিলাওয়াত করতে সক্ষম হবেন।
পাশাপাশি ধর্মীয় ও কোরআনিক শিক্ষায় তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং সমাজে তাঁদের সক্রিয় অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ, আচরণ ও পাঠদানের ক্ষেত্রে দক্ষ বিশেষজ্ঞ শিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের মাধ্যমে উপযোগী শিক্ষাপদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে, যাতে তাঁরা ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমে কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারেন।
দামেস্কের ধর্মীয় ওয়াকফ অধিদপ্তরের এ পদক্ষেপ ধর্মীয় শিক্ষায় সব শ্রেণির মানুষের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আলাদা শিক্ষাব্যবস্থা ও কোরআন শিক্ষার্থীদের জন্য সৃজনশীল ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষাকে আরও মানবিক ও অংশগ্রহণমূলক করার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে। পবিত্র কোরআনের শিক্ষা থেকে যেন কোনো মানুষ শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে বঞ্চিত না হন, সে উদ্দেশ্যেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি
kalprakash.com/IM