প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোগান্তি কমাতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের নিয়মে বড় ধরনের শিথিলতা আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শিক্ষা সনদের বাধ্যবাধকতা শিথিল করে পাসপোর্ট, ওয়ারিশ সনদ ও বিদেশের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নথিপত্রকে ভিত্তি ধরে এনআইডি সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কমিশন।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনায় রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে এ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সংশোধন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জীবিকার প্রয়োজনে অল্প বয়সে পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে পাড়ি জমানো প্রবাসীরা পরবর্তীতে পাসপোর্ট নবায়ন ও এনআইডির তথ্যের অমিল নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন। এই সংকট দূর করতে মূল পাসপোর্টকে ভিত্তি ধরে প্রবাসীদের আবেদন বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বয়স বা জন্মতারিখ সংশোধনে পরিবারের সদস্যদের এনআইডি নম্বরযুক্ত ওয়ারিশ সনদও প্রমাণক হিসেবে গ্রহণ করা হতে পারে।
এ ছাড়া পাসপোর্ট ও ওয়ারিশ সনদের পাশাপাশি বিদেশি চাকরির পরিচয়পত্র, রেসিডেন্স পারমিট, বিএমইটি (BMET) কার্ড, ভিসা ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নথি যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রকৃত প্রবাসী নিশ্চিত হতে এবং জালিয়াতি ঠেকাতে পাসপোর্টে থাকা ভিসা সিল ও ইমিগ্রেশন তথ্যও খতিয়ে দেখবে কমিশন।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এনআইডি সেবা সহজ ও প্রবাসীবান্ধব করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে, সেবাগ্রহীতারা ইতোমধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছেন এবং সামনে আরও বড় সুবিধা পাবেন।’
বর্তমানে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের ১৪টি দেশের ২৪টি কূটনৈতিক স্টেশনে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এছাড়া সুইডেন, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডেও দ্রুত এ সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।
kalprakash.com/IM