যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও সামরিক আগ্রাসনে জড়িয়ে নিজেদের একটি চোরাবালিতে আটকে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছে ইরান। একই সঙ্গে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে’ (এমওইউ) উল্লেখিত ৬০ দিনের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানী তেহরানে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এসব কথা জানান।
বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের চাপ বা কৃত্রিম সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে ইরান নীতি নির্ধারণ করে না। যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং এ বিষয়ে কোনো বাস্তবমুখী আলোচনাই শুরু হয়নি। ফলে ৬০ দিনের সময়সীমার কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। ইরান কেবল নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, তথাকথিত ‘আসন্ন হুমকি’র দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল, যা পরবর্তীতে খোদ পেন্টাগনই প্রত্যাখ্যান করেছে। মূলত আঞ্চলিক একটি নির্দিষ্ট শাসকগোষ্ঠীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের উদ্দেশ্যেই ইরানবিরোধী আগ্রাসন চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই ওয়াশিংটনের উচিত মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়া।
ব্রিফিংয়ে কাতারে পরিচালিত সামরিক অভিযানের সময় নিখোঁজ ইরানি পাইলটদের বিষয়ে বাঘাই জানান, গত ২ মার্চ কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের সময় ভূপাতিত হওয়া বিমানের পাইলটদের ভাগ্যের বিষয়ে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সব মাধ্যমে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
ইরান ধারণা করছে, নিখোঁজ পাইলটদের জীবিত আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে তেহরান কাতারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং রেড ক্রসের (আইসিআরসি) মাধ্যমে তাদের অবস্থা নিশ্চিত ও মুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে কাজ করছে।
kalprakash.com/IM