চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত মানুষদের বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। নিহত মতিউর রহমান পেশায় একজন বাসচালকের সহকারী (হেলপার) ছিলেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী জাহাজভাঙা শিল্প এলাকায় একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভাটিয়ারী এলাকার সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করে। এ সময় নিজের সুরক্ষার কথা না ভেবে গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে থাকা মানুষদের উদ্ধারে শিপইয়ার্ডের ভেতরে ছুটে যান মতিউর। একের পর এক মানুষকে সরিয়ে নিতে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি নিজেই বিষাক্ত গ্যাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম নগরের ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মতিউর সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামের মো. হানিফের ছেলে। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে কাজে নেমেছিলেন তিনি। তাঁর এই মর্মান্তিক ও আত্মত্যাগী মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহমুদ হাসান জানান, সীতাকুণ্ড থেকে গ্যাসে আক্রান্ত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজনকে আইসিইউতে ও অন্যজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মতিউর রহমান নামের ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।
kalprakash.com/IM