৭৮ বছরের পথচলায় বিতর্ক কিংবা কোনো কলঙ্ক যাঁকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি, সেই আপাদমস্তক পরিচ্ছন্ন, সাদামনের মানুষ ও প্রাক্তন অধ্যাপক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন করার সিদ্ধান্ত সুস্থ ধারার রাজনীতির এক অসাধারণ বিজয়। তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধান মনোনীত করে বিএনপি কেবল একজন সৎ ও ত্যাগী নেতাকেই পুরস্কৃত করেনি, বরং রাষ্ট্রপতি পদের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে ১৯৭২ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন মির্জা ফখরুল। দীর্ঘ সময় ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনার পর ১৯৮৬ সালে চাকরি ছেড়ে দেন এবং ১৯৮৮ সালে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
রাজনীতিতে যখন নীতি ও আদর্শের চরম সংকট, কুরুচিপূর্ণ ভাষার ব্যবহার ও ব্যক্তিগত আক্রমণের সয়লাব, তখন তিনি এক অনন্য ব্যতিক্রম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এবং এরশাদের স্বৈরশাসনের কঠিন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার আহবানে সাড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ‘এক-এগারো’র জরুরি অবস্থা থেকে শুরু করে পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটকালে তিনি বিএনপির সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও অকুতোভয় কাণ্ডারি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
২০০৯ সালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০১৬ সালের ষষ্ঠ কাউন্সিলে মহাসচিবের দায়িত্ব নেন মির্জা ফখরুল। বিগত সরকারের সময়ে তিনি শতাধিক মিথ্যা মামলার সম্মুখীন হন এবং রাজনৈতিক জীবনে প্রায় সাড়ে চারশত দিন কারাবরণ করেন। তবে জেল-জুলুম কিংবা দমন-পীড়ন তাঁর নীতি ও মনোবলকে একবিন্দু দুর্বল করতে পারেনি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে চরম প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি দলকে সংগঠিত রেখে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পরিচালনা করেন।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বিরোধী বলয়ের নেতাদের প্রতি কখনো অশালীন বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেননি এই বর্ষীয়ান নেতা। নীতি-আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন হলেও ভিন্নমতের প্রতি পরম শ্রদ্ধাশীল মনোভাব তাঁকে দল-মত নির্বিশেষে সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও নিপাট ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
আজকের এই অস্থির সময়ে, যখন সমাজে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ও আইডলের অভাব দৃশ্যমান, সেখানে অধ্যাপক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন অনন্য অনুসরণীয় আদর্শ। তাঁর মতো একজন সাদামনের রাজনীতিবিদ ও সফল অভিভাবককে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে নির্বাচন করা জাতির জন্য চরম স্বস্তির এবং সুস্থ রাজনীতির পুনর্জাগরণের নতুন বার্তা বহন করে। (সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন)
kalprakash.com/IM