কর্মস্থলে টানা অনুপস্থিতি, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড এবং নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিতর্কিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ডিএমপির সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) গোলাম রুহানীসহ পুলিশের জ্যেষ্ঠ ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই বরখাস্তের আদেশ প্রদান করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া অন্য চার কর্মকর্তা হলেন—সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস এবং সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইকবাল হোসাইন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধি ও ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের অবস্থান ও অপরাধচিত্র:
১. বিপ্লব কুমার সরকার: ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সহিংস ভূমিকা ও গণসংহারের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে। তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত ছিলেন।
২. গোলাম রুহানী: নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই ও সাবেক এসি (মতিঝিল)। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থেকে পলাতক রয়েছেন।
৩. সুদীপ কুমার চক্রবর্তী: চানখাঁরপুলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামি।
৪. মো. ইকবাল হোসাইন: সাবেক ডিসি (ওয়ারী)। জুলাই আন্দোলনের সময় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ফাঁস হওয়া বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য সমালোচিত হন; যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা…।” তাঁর বিরুদ্ধেও ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার বিচার চলছে।
৫. রাজন কুমার দাস: সুনামগঞ্জের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। আন্দোলন দমনে সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে বর্তমানে পলাতক।
৬. কাজী আশরাফুল আজীম: চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অননুমোদিত অনুপস্থিতির কারণে বরখাস্ত।
kalprakash.com/IM