রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ | ৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সকাল ৮:২০:৪৬

হামলার আশঙ্কায় উড়োজাহাজ পাল্টে ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের নাটকীয় ঘটনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০০
শেয়ার: mail
হামলার আশঙ্কায় উড়োজাহাজ পাল্টে ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের নাটকীয় ঘটনা

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও চাঞ্চল্যকর কৌশলে উড়োজাহাজ বদলে তুরস্ক ত্যাগ করতে হয়েছিল। ইরানি হামলার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া প্রাণঘাতী নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও সশস্ত্র বাহিনী এই নাটকীয় পদক্ষেপ নেয় বলে খবর প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’।

এর আগে মার্কিন দৈনিক ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ ঘটনার আভাস দিলেও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এই নিখুঁত ও অভিনব উদ্ধার অভিযানের রোমাঞ্চকর বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাটো সম্মেলন চলাকালেই মার্কিন গোয়েন্দারা খবর পান যে ইরানের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের মূল বিমান ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’-এর ওপর হামলার অত্যন্ত গুরুতর ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকি রয়েছে। এমনকি ট্রাম্প সম্মেলনের ঠিক কোন ভবনের কত নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন, সেই সুনির্দিষ্ট তথ্যও ইরানিদের হাতে ছিল। পাশাপাশি ন্যাটো সম্মেলন এলাকার কাছেই কাঁধে বহনযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রসহ এক সন্দেহভাজনকে দেখতে পাওয়ার তথ্যে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা চরম সতর্কাবস্থা জারি করেন।

উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে তৈরি করা হয় এক গোপন পরিকল্পনা। দৃশ্যত গণমাধ্যম ও সাধারণ কর্মীদের বিভ্রান্ত করতে ট্রাম্প ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁর নির্ধারিত পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠেন। তবে বিমানে প্রবেশের পর তাঁকে অত্যন্ত গোপনে একটি ক্যাটারিং কনটেইনার ট্রাকে করে রানওয়েতে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা ‘সি-৩২এ’ (C-32A) নামক একটি সামরিক পরিবহনে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও হাতেগোনা কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ব্যতীত সঙ্গে থাকা সাংবাদিক এবং কর্মীরা পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অন্ধকারে ছিলেন।

পরবর্তীতে ট্রাম্পকে বহনকারী সামরিক বিমানটি নিজের সমস্ত লোকেশন সিস্টেম ও ট্রান্সমিটার বন্ধ রেখে ‘রিচ ১৮’ (RCH18) কল সাইন ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের মিলডেনহল সামরিক ঘাঁটির উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়। নিরাপত্তাঝুঁকি পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর ট্রাম্পকে ফের মূল এয়ারফোর্স ওয়ানে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়ে তিনি ওয়াশিংটনে প্রত্যাবর্তন করেন।

পরবর্তীতে ওহাইও সফর শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই নাটকীয় ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উড়োজাহাজ বদলের এই সিদ্ধান্তটি তাঁর ব্যক্তিগত ছিল না, বরং গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনা কর্মকর্তাদের দেওয়া কঠোর নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনার কারণেই তাঁকে এই গোপন কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছিল।

(সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস)

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

হামলার আশঙ্কায় উড়োজাহাজ পাল্টে ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের নাটকীয় ঘটনা

বিস্তারিত কমেন্টে