পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে থমকে গেছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দিন কিংবা রাতে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহের পর টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে পুরো এলাকা। ফলে পিরোজপুরের এই জনপদে মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, আধুনিক জীবনযাত্রায় মানুষের আয়-রোজগার ও জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এখন বিদ্যুৎ। এমন পরিস্থিতিতে ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরা।
বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় রিকশাচালক আলী হোসেন বলেন, “সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর রাতে একটু শান্তিতে ঘুমানোর সুযোগ পাই না। সবচেয়ে বড় বিপদে পড়েছি ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়া নিয়ে। গাড়ি ঠিকমতো চার্জ না হলে পরদিন আর পেটের ভাত জোটে না।”
তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রেও। স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। অসহ্য গরমে কোমলমতি শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের পড়ালেখা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।
সামাজিক সংগঠন ‘কদমতলা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম এ নকিব নাছরুল্লাহ্ বলেন, “কদমতলার এই বিদ্যুতিন সংকট এখন আর সাধারণ ভোগান্তিতে সীমাবদ্ধ নেই, এটি মানবিক ও সামাজিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অবিলম্বে কদমতলাকে অবহেলার হাত থেকে মুক্ত করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা আবশ্যক।”
একই ভোগান্তি দেখা দিয়েছে স্থানীয় মসজিদ ও মন্দিরগুলোতে। পানির অভাব ও গরমে বয়স্ক মুসল্লিদের নামাজে কষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অন্ধকারেই সারতে হচ্ছে প্রতিদিনের প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।
বিদ্যুতের এমন চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে কদমতলা ইউনিয়নকে দ্রুত সুনির্দিষ্টভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আনা এবং স্থায়ী লোডশেডিং মুক্ত এলাকা ঘোষণার জোর দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
kalprakash.com/IM