বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়োগ সংক্রান্ত এক খসড়া চিঠির অংশবিশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “মন খুলে কথা বললে যদি টুইস্ট করা হয়, তবে তো বাধ্য হয়ে ডিপ্লোমেটিক উত্তরই দিতে হবে।”
শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের চিঠিতে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয়ের ভেতরের কোনো ‘গুপ্ত’ ব্যক্তি অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ওই চিঠি বাইরে প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ সভার কার্যবিবরণী ফাঁসের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রণালয়ে সভা হয়েছে এবং প্রস্তাবের রেজুলেশন তৈরি হয়েছে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন মন্ত্রী। প্রস্তাবের শেষ অংশে স্পষ্ট লেখা রয়েছে, ‘মন্ত্রী সংশোধনপূর্বক অনুমোদন দেওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে’। ওই চূড়ান্ত ফাইল আমার টেবিলে আসার আগেই কোন গুপ্ত ব্যক্তি আমার মন্ত্রণালয় থেকে খসড়ার কপি চুরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিল? এটাই আমাদের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি।”
সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জুলাই ৩৬-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের একসঙ্গে কাজ করার কথা। কিন্তু কথায় কথায় আন্দোলন দেখা যাচ্ছে—বুঝেও আন্দোলন, না বুঝেও আন্দোলন। পরীক্ষা নিলেও আন্দোলন, না নিলেও আন্দোলন; পাস করালেও আন্দোলন, ফেল করালেও আন্দোলন!”
শিক্ষামন্ত্রী এসএসসি ফলের সংবাদ সম্মেলনের উদাহরণ টেনে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন— শিক্ষকরা নাকি এবার ‘মন খুলে’ নম্বর দিতে পারেননি। আমি রসিকতা করে বলেছিলাম— মন খুলে গান গাওয়া যায়, কিন্তু পরীক্ষার খাতায় মন খুলে নম্বর দেওয়া যায় না। সেটাও মিডিয়ায় টুইস্ট করা হলো! এরপর কেউ কেউ বলছেন আমি নাকি ডিপ্লোম্যাটিক কথা বলি। আপনারা মন খুলে কথা বললে যদি সেটাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেন, তবে ডিপ্লোম্যাটিক উত্তর দেওয়া ছাড়া উপায় কী?”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বিকেলে শুনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে। কোথায় আমরা ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের দ্রুত ব্যবস্থার চিন্তায় বিভোর, সেখানে পাঁচ মাস যেতে না যেতেই বানোয়াট অজুহাতে আমাদের কাজ আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রায় ২ হাজার শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা কি কিছুদিন ধৈর্য ধরতে পারি না?”
kalprakash.com/IM