শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ | ৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১২:৪০:৩৬

এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪১
শেয়ার: mail
এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দিন চৌধুরীর গলায় রামদা ধরে বসতবাড়িসহ স্থাবর সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তার তাঁর তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিমের আদালতে অভিযোগটি করা হলে বিজ্ঞ আদালত তা আমলে নিয়ে সিআইডিকে (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ) সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরীকে। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দিরাই উপজেলার মাতারগাঁওয়ের আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁওয়ের ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, তাজুল ইসলাম এবং মোহরার মমতাজ বেগম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থতায় শারীরিকভাবে অক্ষম থাকার সুযোগে তাঁর দু’স্ত্রী ও সন্তানদের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত শুরু করে আসামিরা। এরই অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দুজন কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে কর্মকর্তা সাজিয়ে এমপির বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে অসুস্থ নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে দলিলে স্বাক্ষর দিতে বললে তিনি অপারগতা জানান।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তিনি স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক গলায় রামদা ঠেকিয়ে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে দলিলে স্বাক্ষর আদায় করা হয়। এতে বাধা দিলে তাঁর স্ত্রী শেলী চৌধুরীকেও প্রাণনাশের হুমকি দেয় দুষ্কৃতকারীরা। এছাড়া অন্য স্ত্রী পারভিন আক্তারও তাদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বলে মামলায় তুলে ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী সুস্থ বোধ করলে স্ত্রীকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) প্রদান করেন, যার ভিত্তিতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান আসামি ও এমপির সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, “গলায় দা ঠেকিয়ে বাড়ি লিখে নেওয়ার ঘটনা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভিত্তিহীন। পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আদালতে আইনিভাবেই আমরা এর জবাব দেব।”

দিরাই আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু মামলার আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ

বিস্তারিত কমেন্টে