শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব, তদবির বা কোনো ধরনের ডিও লেটার (আধাসরকারী পত্র) দেবেন না বলে ইতিপূর্বে একাধিক মঞ্চে বক্তব্য দিলেও নিজের কথা ও কাজের অসঙ্গতি নিয়ে এবার তোপের মুখে পড়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য মো: আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ)।
সম্প্রতি দেবিদ্বার উপজেলার বুড়িরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি হিসেবে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত ডিও লেটার পাঠিয়েছেন এই সংসদ সদস্য। চিঠিটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সুশীল সমাজে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নিজস্ব প্যাডে প্রেরিত ওই ডিও লেটারে (স্মারক নং: বা/জা/স/২৫২/প্রা/শি/অ/ডিও-৪৬, তারিখ: ০১/০৬/২০২৬ খ্রি.) দেখা যায়, সংসদ সদস্য মো: আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে উদ্দেশ্যে করে লিখেছেন— দেবিদ্বারের ‘বুড়িরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, উক্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে বুড়িরপাড় গ্রামের বাসিন্দা মো: মজিবুর রহমান সরকার ( পিতা: আবদুর রাজ্জাক সরকার)-কে মনোনয়ন প্রদানের জন্য সুপারিশ করছেন এবং তাঁকে সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে শিক্ষা অফিসারকে বিশেষভাবে অনুরোধ ও নির্দেশ প্রদান করেন।
এর আগে নানা সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ। সেখানে তিনি বলেছিলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সুপারিশে পদায়ন গ্রহণযোগ্য হবে না।
সামাজিক মাধ্যমে এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের আলোচনায় এখন বড় প্রশ্ন— ‘কথা ও কাজের এই ব্যবধান কেন?’ একজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে যেখানে নিয়মতান্ত্রিক ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার প্রত্যাশা থাকে, সেখানে একক ব্যক্তিস্বার্থে ডিও লেটার দেওয়া রাজনৈতিক দ্বিমুখী নীতিকে স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে- সংসদ সদস্যের পাঠানো বার্তা বা চিঠিটি তারা গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
kalprakash.com/IM