পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের সবচেয়ে বাইরের স্পর্শকাতর স্তর ‘করোনা’ সম্পর্কে অত্যন্ত দ্রুত ও সূক্ষ্ম তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ নতুন ধাঁচের একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন ইতালির একদল গবেষক। আগামী ১২ আগস্ট ইউরোপজুড়ে দৃশ্যমান পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় স্পেনে যন্ত্রটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চালানো হবে।
যন্ত্রটি সফলভাবে কার্যক্ষম প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে তা আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা মিশনেও যুক্ত করা হতে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে।
ইতালির পাদোভা শহরের একটি গবেষণাগারে নির্মিত ‘সার্কুলার স্লিট স্পেকট্রোমিটার’ (Circular Slit Spectrometer) নামের এই আধুনিক যন্ত্রটি স্পেনের জাভালামব্রে অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল অবজারভেটরি থেকে সূর্যগ্রহণ চলাকালে পরীক্ষা করা হবে।
গবেষকদের ধারণা, প্রচলিত সনাতন যন্ত্রগুলোর তুলনায় এটি সূর্যরশ্মিকে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে রূপান্তর করে অভাবনীয় গতিতে তথ্য বিশ্লেষণ করতে সক্ষম।
বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল ‘করোনা’ থেকে উৎপন্ন হওয়া শক্তিশালী সৌরঝড় পৃথিবীর আধুনিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, কৃত্রিম উপগ্রহ, জিপিএস ও সার্বিক যোগাযোগ প্রযুক্তিতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাতে পারে। সাধারণ দিনে সূর্যের তীব্র আলোর প্রভাবে করোনা দৃশ্যমান না হলেও পূর্ণ সূর্যগ্রহণের স্বল্প সময়ে চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিলে তা পর্যবেক্ষণযোগ্য হয়।
প্রচলিত স্পেকট্রোমিটারে পুরো করোনার সার্বিক চিত্র ধারণ করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে—যে সময়ের মধ্যে করোনার অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত রূপান্তর ঘটে যায়। নতুন উদ্ভাবিত এই সার্কুলার স্লিট স্পেকট্রোমিটারে বৃত্তাকার স্লিট ব্যবহারের মাধ্যমে সূর্যের কেন্দ্র থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকা সমগ্র করোনার মানচিত্র মাত্র একটি ছবির মাধ্যমেই নিখুঁতভাবে ধারণ করা সম্ভব হবে।
ইতালির তুরিন অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল অবজারভেটরির প্রধান বিজ্ঞানী ফেদেরিকো লানদিনি জানান, “যন্ত্রটি এক ঝিলিক ছবির মাধ্যমেই একটি নির্দিষ্ট পরিধির পুরো করোনার স্পেকট্রাম ধারণ করতে পারবে, যা তথ্য সংগ্রহের সময়কে বহুগুণ কমিয়ে আনবে।”
যন্ত্রটির সংবেদনশীলতা ও সুরক্ষার কথা চিন্তা করে বিমান ভ্রমণের ঝুঁকি এড়িয়ে সড়কপথে ভ্যানযোগে ইতালি থেকে স্পেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ১২ আগস্টের সূর্যগ্রহণে পরীক্ষাটি সফল হলে সূর্যের করোনা বিশ্লেষণ এবং মহাকাশ আবহাওয়া সংক্রান্ত নিখুঁত পূর্বাভাস প্রদানে নতুন এক যুগান্তকারী দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।
kalprakash.com/IM