অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের চাঞ্চল্যকর মামলায় এনএসআই ও র্যাবের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।
রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ আবেদন পেশ করা হয়।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনালে হাজিরের পর সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম ও সীমান্ত পার করে ভারতে পাঠানোর মামলায় জিয়াউল আহসানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আবেদন জানানো হবে।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে অপহৃত হয়ে নিখোঁজ হন বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রায় দুই মাস পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে উদভ্রান্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। পরবর্তীতে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় ভারতীয় আদালত থেকে খালাস পেলেও নানা আইনি জটিলতায় দীর্ঘ বছর সেখানে অবরুদ্ধ থাকতে হয় তাঁকে। অবশেষে ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন তিনি।
দেশে ফিরে গুমের ন্যায়বিচার পেতে ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর জাতীয় গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনে অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।
অভিযোগে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক র্যাব ডিজি বেনজীর আহমেদ, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানকে আসামি করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম ও গোপনে সীমান্ত পার করানোর ঘটনায় জিয়াউল আহসানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় তদন্ত সংস্থা। ইতোপূর্বে গত ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ও শতাধিক গুমের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আদালত।
রোববার প্রসিকিউশনের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেবেন।
kalprakash.com/IM