বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ | ২১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ২১ সফর, ১৪৪৮ | রাত ৮:২৪:০০

ইউরোপে শুরু হচ্ছে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজের যুগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫১
শেয়ার: mail
ইউরোপে শুরু হচ্ছে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজের যুগ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

আগামী চার বছরের মধ্যেই ইউরোপের কিছু স্বল্প দূরত্বের অভ্যন্তরীণ রুটে বাণিজ্যিকভাবে চালু হতে পারে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ। ব্যাটারি প্রযুক্তির দ্রুতগতির উন্নয়ন ও নতুন উদ্ভাবনের ফলে এই সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারিচালিত ও হাইব্রিড উড়োজাহাজ চালুর মাধ্যমে স্বল্প দূরত্বের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে আকাশচুম্বী জ্বালানি তেলের দাম ও আমদানি করা জেট ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা বহুলাংশে কমবে।

যেসব রুটে চালুর সম্ভাবনা:

ইউরোপের বেশ কিছু বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত একটানা উড়তে সক্ষম বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। এ প্রকল্প সফল হলে ইউরোপের মোট স্বল্প দূরত্বের আকাশপথের প্রায় ২৫ শতাংশই এ ধরনের পরিবেশবান্ধব বিমানের আওতায় চলে আসবে।

প্রাথমিকভাবে যেসব ব্যস্ত রুটে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে—

  • লন্ডন–ডাবলিন

  • এথেন্স–সান্টোরিনি

  • বার্সেলোনা–ইবিজা

  • নিস–কর্সিকা

  • রোম–সার্ডিনিয়া

উল্লেখ্য, চিহ্নিত রুটগুলোর বেশিরভাগই দ্বীপাঞ্চলীয় এলাকা হওয়ার কারণে সেখানে ট্রেন যোগাযোগের বিকল্প সুযোগ নেই। ফলে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ কার্যকর ও সময়সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

বাণিজ্যিক অগ্রগতির সময়সীমা:

  • ভ্যারিডিয়ন (জার্মানি): জার্মানির এই স্টার্টআপ ৯ আসনবিশিষ্ট একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে যাত্রী পরিবহনের নীতিগত অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • অরা অ্যারো (ফ্রান্স): অরা অ্যারো ১৯ আসনের একটি হাইব্রিড-ইলেকট্রিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে, যা ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক অনুমোদন পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

  • এলিসিয়ান এয়ারক্রাফট (নেদারল্যান্ডস): ডাচ এই প্রতিষ্ঠানটি ৯০ আসনের একটি পূর্ণাঙ্গ বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরির কাজ করছে, যা একবার চার্জে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করতে পারবে। এটি ২০৩৫ সাল নাগাদ আকাশে ওড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

পরিবেশগত সুফল:

প্রচলিত জেট ইঞ্জিন চালিত বিমানের তুলনায় বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চলাচলের সময় কোনো ধরনের সরাসরি কার্বন নির্গমন ঘটে না। পাশাপাশি এটি শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনে। তবে পরিবেশবিদদের মতে, চার্জিং প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিদ্যুৎ যদি সৌর বা বায়ুবিদ্যুতের মতো পুরোপুরি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহ করা যায়, তবেই কেবল এর সর্বোচ্চ সুফল অর্জন সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভবিষ্যতে স্বল্প দূরত্বের রুটে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজের পাশাপাশি উচ্চগতির রেল সংযোগ বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় সংক্ষিপ্ত আকাশ ভ্রমণ হ্রাসের ওপরও গুরুত্বারোপ করতে হবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward