সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২২ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | রাত ১:২৬:৫৪
শিরোনাম
● প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ● তেজগাঁও কলেজ সরকারি করার দাবিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি ● যানবাহনের গ্যাসের দাম বাড়াল বিইআরসি ● হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে ৫৪ কর্মকর্তা ● কূটনীতিক বহিষ্কারের মার্কিন দাবি নাকচ আরাঘচির ● সিনাইয়ে গাজার ৪০০ শিশুর স্কুল গড়লেন ফিলিস্তিনি শিক্ষক ● ২০ টাকার আলু ১৪ টাকায় ● এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ তদারকিতে কিম ● ইন্দোনেশিয়ায় ২ গণ্ডারের গর্ভধারণে বিপন্ন প্রজাতি রক্ষায় নতুন আশার আলো ● সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না ইরান ● প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ● তেজগাঁও কলেজ সরকারি করার দাবিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি ● যানবাহনের গ্যাসের দাম বাড়াল বিইআরসি ● হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে ৫৪ কর্মকর্তা ● কূটনীতিক বহিষ্কারের মার্কিন দাবি নাকচ আরাঘচির ● সিনাইয়ে গাজার ৪০০ শিশুর স্কুল গড়লেন ফিলিস্তিনি শিক্ষক ● ২০ টাকার আলু ১৪ টাকায় ● এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ তদারকিতে কিম ● ইন্দোনেশিয়ায় ২ গণ্ডারের গর্ভধারণে বিপন্ন প্রজাতি রক্ষায় নতুন আশার আলো ● সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না ইরান

ঝিকরগাছায় শহীদ জাবিরের স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন বাবা-মা, মেলেনি বিচার

মো. মনির হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
মো. মনির হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৭
শেয়ার: mail
ঝিকরগাছায় শহীদ জাবিরের স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন বাবা-মা, মেলেনি বিচার

যশোর শহর থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে ঝিকরগাছা উপজেলার দেউলি গ্রাম। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার ছিল কৃষক নওশের আলী ও শিরিনা আক্তার দম্পতির। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছেলে ইমতিয়াজ আহম্মেদ জাবিরকে হারিয়ে আজও শোকে কাতর এই দম্পতি। ছেলের পুরানো জামা-কাপড় আর ব্যবহৃত কাগজপত্র ঘেঁটেই এখন কাটছে তাঁদের দিন।

নিহত জাবির ঢাকার সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ছিলেন। পরিবার ও আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, শুরু থেকেই তিনি গণআন্দোলনে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রামপুরা এলাকায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশের টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটে আহত হন জাবির। তবে তাতেও পিছু না হটে পরদিন ১৯ জুলাই ফের মিছিলে যোগ দেন। সেদিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হলে সহযোদ্ধারা তাঁকে উদ্ধার করে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবশেষে ঢামেকের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ জুলাই মারা যান জাবির।

জাবিরের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, স্বজনেরা চেয়েছিলেন সকালে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করতে। কিন্তু তৎকালীন পতিত শেখ হাসিনা সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশ ছিল রাতেই তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করার। ফলে শেষবারের মতো জাবিরকে তাঁদের নিজের বাড়ির ভেতরেও নিয়ে আসতে দেওয়া হয়নি। স্বজনেরা একটু ছুয়ে দেখতে না পারার সেই আফসোস আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন।

জাবিরের বাবা নওশের আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “জাবিরের মরদেহ যখন ঢামেক থেকে বের করা হচ্ছিল, তখন সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ আমাদের টিটকারি মেরে বলেছিল—‘যাও, ছেলেকে ভালো করে আন্দোলন করতে বলো। এখন কবরে শুয়ে শুয়ে আন্দোলন করুক।’ শুধু তা-ই নয়, ঢাকা থেকে গ্রামে আনা পর্যন্ত মিনিটে মিনিটে ফোন করে দ্রুত দাফনের চাপ দিচ্ছিল। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সোজা কবরে নামানোর নির্দেশ দিয়েছিল তারা।”

তিনি আরও বলেন, “আন্দোলনের এক বছর পার হয়ে গেছে। আমার স্বপ্ন তো সব শেষ। ছেলে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৯৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে, কিন্তু এখনো দৃশ্যমান বিচার পেলাম না। মারা যাওয়া অসংখ্য মানুষের খুনিদের দ্রুত বিচার দেখতে চাই।”

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জাবিরের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে নিজের চাষের জমি বিক্রি করেছিলেন তাঁর বাবা। পরিবারের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার।

যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জাবির দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। জাবিরের পরিবারের সাথে দলীয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ বিএনপির প্রতিনিধিরা নিয়মিত যোগাযোগ ও খোঁজখবর রাখছেন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

ঝিকরগাছায় শহীদ জাবিরের স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন বাবা-মা, মেলেনি বিচার

বিস্তারিত কমেন্টে