পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে (অডিটোরিয়াম) বেলা আড়াইটার দিকে এ নবীন বরণ ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮০০ নবীন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে একটি করে গাছের চারা ও সোনাআঁশ পাটের তৈরি ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন নবীন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান ও আরিফা সুলতানা।
অনুষ্ঠানে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত আলী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ‘ওরিয়েন্টেশন স্পিকার’ হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রশীদ। এতে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা ও যমুনা বিস্তৃত আমাদের পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিভিন্ন বিপ্লব ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানবজাতির ইতিহাস ও সভ্যতা প্রভাবিত হয়েছে। বাংলাদেশেও একইভাবে নতুন দেশ বিনির্মাণের যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন চলছে, তা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই সাধিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটি প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন। এমন এক স্মরণীয় দিনে তাদের হাতে একটি করে ইনডোর প্লান্ট তুলে দেওয়া হয়েছে, যা একটি সুন্দর বার্তা বহন করে। এই গাছ শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেবে—স্বপ্নের বীজ রোপণের পর তা প্রতিদিন অধ্যবসায়, চেষ্টা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে পরিচর্যা করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, চার দেয়ালের শ্রেণিকক্ষ আর বইয়ের পাতার বাইরে সবচেয়ে বড় শিক্ষাকেন্দ্র হলো প্রকৃতি। পড়ার টেবিলে রাখা ছোট সবুজ প্রাণটি শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির প্রতি সংবেদনশীল হতে শেখাবে। একই সঙ্গে এটি তাদের ধৈর্য ও দায়িত্ববোধ তৈরি করবে, যা ভবিষ্যতে সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নবীন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিতুন কুমার পোদ্দার ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সাবিহা আফরিন বাধন।
kalprakash.com/IM