মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | রাত ১:২২:২৩

আল-আকসা প্রাঙ্গণে ঢুকে ২ হাজারের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর অনুপ্রবেশ

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৪
শেয়ার: mail
আল-আকসা প্রাঙ্গণে ঢুকে ২ হাজারের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর অনুপ্রবেশ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছেন ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠীর সদস্যরা। ইহুদিদের ধর্মীয় শোক দিবস তিশা বাবকে কেন্দ্র করে এ বছরের অন্যতম বড় অনুপ্রবেশের ঘটনা বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ইসরায়েলের কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন দেশটির কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তিশা বাব উপলক্ষে তিনি সেখানে যান।

ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসা প্রাঙ্গণে অমুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ নয়। তবে সেখানে ইহুদি বা অন্য কোনো ধর্মের অনুসারীদের প্রার্থনা করার অনুমতি নেই।

জেরুজালেম গভর্নরেটের ফিলিস্তিনি প্রশাসন জানিয়েছে, সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল-আকসায় প্রবেশকারী ইসরায়েলিদের সংখ্যা পাঁচ হাজারে পৌঁছাতে পারে। তাদের দাবি, এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল-আকসার প্রবেশপথগুলোতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বহু ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও শিক্ষার্থীকে মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া অনেক মুসল্লির ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।

জেরুজালেমের পুরোনো শহরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। বয়স্ক ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেম ও কালান্দিয়াসহ বিভিন্ন তল্লাশিচৌকিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

পবিত্র মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা তালমুদিক ধর্মীয় আচার পালন করেন। তারা গান গেয়েছেন, মাটিতে নত হয়েছেন এবং প্রার্থনা করেছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ এক হাজারের বেশি ইসরায়েলিকে সেখানে প্রার্থনার সুযোগ করে দিয়েছে। ফিলিস্তিনি পক্ষের দাবি, এটি ১৯৬৭ সালের ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন।

আল-আকসায় উপস্থিত হয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের খবরে বলা হয়েছে, তিনি দাবি করেন, আল-আকসায় আসা ইহুদিরা এ স্থানকে নিজেদের বলে মনে করেন। সেখানে ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়াকে তিনি বড় অগ্রগতি বলেও উল্লেখ করেন।

বেন-গভিরের এ পদক্ষেপকে উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছে জেরুজালেম গভর্নরেট। তাদের দাবি, এ ঘটনার পেছনে ইসরায়েল সরকারের সরাসরি সমর্থন রয়েছে।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের আগ্রাসনের চরম মূল্য ইসরায়েল ও বসতি স্থাপনকারীদেরই দিতে হবে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফুয়াদ মাজালি বলেন, এটি একটি বর্বরোচিত কাজ এবং পবিত্র স্থানের মর্যাদার লঙ্ঘন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। পরে ১৯৮০ সালে অঞ্চলটি নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দেয়। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের এ পদক্ষেপকে কখনোই স্বীকৃতি দেয়নি।

সূত্র: আল-জাজিরা

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward