সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৮ সফর, ১৪৪৮ | রাত ১০:৩৭:১৩

গর্ভাবস্থায় হালকা রক্তপাত: কখন স্বাভাবিক, কখন সতর্ক হওয়া জরুরি?

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫০
শেয়ার: mail
গর্ভাবস্থায় হালকা রক্তপাত: কখন স্বাভাবিক, কখন সতর্ক হওয়া জরুরি?

Pregnant woman suffering belly ache sitting on a couch in the living room at home

গর্ভধারণ একজন নারীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময় শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে, যার কিছু স্বাভাবিক হলেও কিছু পরিবর্তন উদ্বেগের কারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় যোনিপথে হালকা রক্তপাত বা স্পটিং এমনই একটি বিষয়, যা অনেক হবু মাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ধরনের রক্তপাতই বিপদের লক্ষণ নয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে হালকা স্পটিং অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক হতে পারে।

স্পটিং কী?

স্পটিং বলতে যোনিপথে অল্প পরিমাণ রক্তপাতকে বোঝায়। এটি সাধারণত কয়েক ফোঁটা গোলাপি, লাল বা বাদামি রঙের রক্ত হিসেবে দেখা যায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্যানিটারি প্যাড পুরোপুরি ভিজে যায় না। অনেক নারী সুস্থভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার আগেও এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান।

কেন হয় হালকা রক্তপাত?

গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে স্পটিংয়ের অন্যতম সাধারণ কারণ হলো ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং। নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর দেয়ালে স্থাপিত হওয়ার সময় এটি হতে পারে। সাধারণত গর্ভধারণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে এমন রক্তপাত দেখা যায় এবং এটি এক থেকে দুই দিনের বেশি স্থায়ী হয় না।

এ ছাড়া হরমোনের পরিবর্তন, জরায়ুমুখে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি, যৌন মিলন, পেলভিক পরীক্ষা কিংবা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণেও সাময়িক হালকা রক্তপাত হতে পারে। গর্ভাবস্থায় জরায়ুমুখ তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল থাকায় এমনটি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

কখন সতর্ক হবেন?

দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে রক্তপাতকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এ সময় স্পটিং জরায়ুমুখের সংক্রমণ, পলিপ, প্রদাহ কিংবা প্লাসেন্টা-সংক্রান্ত জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি অকাল প্রসবেরও লক্ষণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি রক্তপাতের সঙ্গে তীব্র তলপেট বা পিঠে ব্যথা, মাথা ঘোরা, জ্বর, রক্তের জমাট অংশ বা টিস্যু বের হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। এসব উপসর্গ গর্ভপাত, একটোপিক প্রেগন্যান্সি বা অন্য কোনো জরুরি জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।

কী করবেন?

গর্ভাবস্থায় যেকোনো ধরনের রক্তপাত দেখা দিলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দ্রুত প্রসূতি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা বা শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করবেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ না পাওয়া পর্যন্ত ভারী কাজ, কঠোর ব্যায়াম, যৌন মিলন এবং যোনিপথে কোনো কিছু প্রবেশ করানো থেকে বিরত থাকা নিরাপদ।

মনে রাখবেন

গর্ভাবস্থায় স্পটিং সবসময় বিপদের লক্ষণ নয়, তবে এটিকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকুন এবং যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward