মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৬:৫২:১৬

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৫
শেয়ার: mail
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো নবনির্মিত টিএসসি ভবনের অডিটোরিয়ামে বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে এ ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।

ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের আলোচনা সভা ও পরিচিতি পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ও ওরিয়েন্টেশন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। এখানে যেমন আধুনিক অবকাঠামো রয়েছে, তেমনি রয়েছে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা সবাই মেধাবী। তবে মেধার সঙ্গে অধ্যবসায়ের সমন্বয় ঘটিয়েই এখানে ভর্তির সুযোগ পেয়েছ। তোমরা যে অঞ্চল থেকেই আসো না কেন, সবাই সমান। নজরুলের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু লেখাপড়াই নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং নিজেকে আগামী দিনের জন্য যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ইউজিসি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দেবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী ও উদ্বোধক সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তিনি বলেন, উদ্ভাবনই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে অল্প সময়ের মধ্যে একটি স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভর্তি যুদ্ধে প্রতিযোগিতা করে তোমরা এখানে এসেছ। তবে এখানেই প্রতিযোগিতা শেষ নয়, বরং এখন থেকেই নতুন পথচলা শুরু। নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে পারলেই সফলতা অর্জন সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ত্রিশালে নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তিনি কবি নজরুলের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুরোধ করেছিলেন। তিনি ২০০৫ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ২০০৬ সালের ২৫ মে উদ্বোধন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নিয়মিত সমাবর্তনের আয়োজনের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ. এইচ. এম. কামাল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ এবং প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও ওরিয়েন্টেশন উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষে লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শওকত ইকবাল এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের মৃত্তিকা দত্ত প্রীতি অনুভূতি প্রকাশ করেন। চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন সরকারও বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের রজনীগন্ধার স্টিক দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে ফোল্ডার, নোটবুক, কলম এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রদান করা হয়।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward