পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের যুগিকাটা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, মারধর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক গুজব ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুগিকাটা গ্রামের অনিল গং ও প্রতিবেশী লক্ষ্মী চরণের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৬ একর ৬৬ শতক জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছিল। সম্প্রতি লক্ষ্মী চরণ ওই জমি স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেনের কাছে বিক্রি করেন।
গত ৮ জুলাই বিকেলে অনিল পক্ষ ওই জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করতে গেলে জাকির হোসেন বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অনিল পক্ষের মারধরে জাকির হোসেন গুরুতর আহত হন। তাঁর একটি হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে অনিল পক্ষের লোকজন বিরোধীয় জমিতে থাকা একটি অস্থায়ী কালীমূর্তির মাথা ভেঙে জাকির হোসেনের গলায় ও হাতে ঝুলিয়ে দেয়। পরে ‘Shanto Pal’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ঘটনাটিকে ‘কালীমূর্তি ভাঙচুর ও জমি জবরদখলের চেষ্টা’ শিরোনামে সরাসরি সম্প্রচার করা হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েকটি পরিবারের দাবি, ঘটনার জেরে তাদের ৯টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের দাবি, মূর্তি ভাঙার ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং তাদের ফাঁসাতে এটি সাজানো নাটক। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
ঘটনার পর পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), স্থানীয় বিএনপি এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পঞ্চগড় পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে যুগিকাটা, ডাঙ্গিরহাট বঙ্গবন্ধু কলেজ গেট এবং কালীবাড়ি চৌরাস্তা এলাকায় ৩ সেকশন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একটি সম্প্রীতি সভার আয়োজন করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের উসকানিমূলক গুজব বা সাম্প্রদায়িক বিভ্রান্তি না ছড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি 





















