শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ | ২৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ২৩ সফর, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:১৯:১০

ইলিশের ভরা মৌসুমেও বাগেরহাটে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ, সংকটে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৬
শেয়ার: mail
ইলিশের ভরা মৌসুমেও বাগেরহাটে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ, সংকটে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদীর মোহনায় অবৈধ জালের ব্যবহার এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সীমাবদ্ধতার কারণে এ অঞ্চলের মৎস্য খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। এতে জেলে, ট্রলার মালিক, আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইলিশের মৌসুমে সাধারণত বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। তবে চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি ভিন্ন। বারবার সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দীর্ঘ সময় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। উত্তাল সাগরের কারণে অনেক ট্রলার মাছ ধরতে যেতে পারছে না। আবার যারা সাগরে যাচ্ছেন, তারাও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ না পেয়ে লোকসান গুনে ফিরছেন। অনেকেরই মাছ ধরার খরচ পর্যন্ত উঠছে না।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, বাগেরহাটের বিভিন্ন পাইকারি আড়তে ইলিশের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। প্রতিদিন যে পরিমাণ মাছ বাজারে আসার কথা, তার তুলনায় অনেক কম ইলিশ উঠছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ইলিশের দামও বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে জনপ্রিয় এ মাছ।

জেলেদের অভিযোগ, পশুর ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় বেহুন্দি জালসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী জলসীমায় প্রতিবেশী দেশের কিছু ট্রলার মাছ আহরণ করায় স্থানীয় জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাদের মতে, শুধু বাংলাদেশে নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখলেই হবে না; ইলিশ সংরক্ষণে দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, নদীতে মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে ইলিশের স্বাভাবিক অভিবাসন ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য উৎপাদনের ওপর।

জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ জাল নির্মূল এবং মাছের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নদী ও মোহনায় নজরদারি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, সুন্দরবন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। দীর্ঘমেয়াদে জেলে পরিবারের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

মৎস্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ইলিশের এই সংকট শুধু জেলেদের জীবিকাকেই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, অবৈধ জাল নির্মূল, নদী ও মোহনা সংরক্ষণ এবং কার্যকর সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ও উৎপাদন ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
ইলিশের ভরা মৌসুমেও বাগেরহাটে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ, সংকটে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা
Logo
বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ | kalprakash.com

ইলিশের ভরা মৌসুমেও বাগেরহাটে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ, সংকটে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা

বিস্তারিত কমেন্টে