বাংলাদেশ ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

মোংলার সেই ভাইরাল ভিডিওর তদন্তে নেমেছে পুলিশ

মোংলায় প্রকাশ্যে এক ব্যক্তিকে কয়েকজন মিলে মারধর করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীসহ কয়েকজন মিলে রাস্তায় একজন ব্যক্তিকে ঘিরে মারধর করছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ।

পরবর্তীতে জানা যায়, মারধরের শিকার ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন (৫০)। ঘটনার সঙ্গে তার স্ত্রী শাহানাজ বেগমসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

সেই অভিযোগে দেলোয়ার বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হামলার ফাঁদে ফেলা হয়। তার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ এপ্রিল দুপুরে তাকে মোংলা উপজেলা পরিষদের সামনে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর এক নারীসহ কয়েকজন মিলে তাকে চারদিক থেকে ঘিরে অতর্কিতভাবে মারধর শুরু করে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তাকে জোরপূর্বক অটোভ্যানে তুলে মোংলা বাজার এলাকার বাংলাদেশ হোটেলের সামনে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করা হয়। এ সময় কিল, ঘুষি, লাথি ও ইট দিয়ে আঘাতে তার মাথা, বুক ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তাকে টেনে-হিঁচড়ে একটি বসতবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দড়ি দিয়ে বেঁধে পুনরায় মারধর করা হয়।

দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, হামলার সময় তার কাছে থাকা মাছ বিক্রির নগদ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা, স্বর্ণ ও রুপার আংটি (আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা), একটি রিয়েলমি ৮ স্মার্টফোন (২৩ হাজার টাকা) এবং একটি ঘড়ি (৬ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘড়িটি ভেঙে ফেলা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শাহানাজ বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দেলোয়ার হোসেন তার স্বামী এবং তাদের সম্পর্ক পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সম্পর্ক নিয়ে কিছু বিষয় গোপন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধের কারণ হয়।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি। পুলিশ বলছে, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, দেলোয়ারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠানো হয়। তবে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বিষয়টি তদন্ত চলছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার ভূঁইয়া বলেন, উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য থাকলেও প্রকৃত ঘটনা জানতে পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

মোংলার সেই ভাইরাল ভিডিওর তদন্তে নেমেছে পুলিশ

প্রকাশিত: ১০:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মোংলায় প্রকাশ্যে এক ব্যক্তিকে কয়েকজন মিলে মারধর করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীসহ কয়েকজন মিলে রাস্তায় একজন ব্যক্তিকে ঘিরে মারধর করছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ।

পরবর্তীতে জানা যায়, মারধরের শিকার ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন (৫০)। ঘটনার সঙ্গে তার স্ত্রী শাহানাজ বেগমসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

সেই অভিযোগে দেলোয়ার বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হামলার ফাঁদে ফেলা হয়। তার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ এপ্রিল দুপুরে তাকে মোংলা উপজেলা পরিষদের সামনে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর এক নারীসহ কয়েকজন মিলে তাকে চারদিক থেকে ঘিরে অতর্কিতভাবে মারধর শুরু করে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তাকে জোরপূর্বক অটোভ্যানে তুলে মোংলা বাজার এলাকার বাংলাদেশ হোটেলের সামনে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করা হয়। এ সময় কিল, ঘুষি, লাথি ও ইট দিয়ে আঘাতে তার মাথা, বুক ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তাকে টেনে-হিঁচড়ে একটি বসতবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দড়ি দিয়ে বেঁধে পুনরায় মারধর করা হয়।

দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, হামলার সময় তার কাছে থাকা মাছ বিক্রির নগদ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা, স্বর্ণ ও রুপার আংটি (আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা), একটি রিয়েলমি ৮ স্মার্টফোন (২৩ হাজার টাকা) এবং একটি ঘড়ি (৬ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘড়িটি ভেঙে ফেলা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শাহানাজ বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দেলোয়ার হোসেন তার স্বামী এবং তাদের সম্পর্ক পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সম্পর্ক নিয়ে কিছু বিষয় গোপন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধের কারণ হয়।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি। পুলিশ বলছে, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, দেলোয়ারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠানো হয়। তবে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বিষয়টি তদন্ত চলছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার ভূঁইয়া বলেন, উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য থাকলেও প্রকৃত ঘটনা জানতে পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।