বাংলাদেশ ০৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo হুতিদের যুদ্ধে প্রবেশে শঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতি, ঝুঁকিতে তেল ও বাণিজ্যের প্রধান জলপথ Logo চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক হচ্ছে: আমিনুল Logo জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আলোচনার তাগাদা বিরোধী দলের Logo ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতির কারণে গ্রামাঞ্চলের সড়কের খুব বেশি উন্নয়ন হয়নি: সংসদে মির্জা ফখরুল Logo ইরানি দ্বীপ দখলের চেষ্টা করা ‘কালেক্টিভ সুইসাইড’ Logo সিএএফ-কে তোয়াক্কা না করে প্যারিসে ট্রফি হাতে সাদিও মানেদের বিজয় মিছিল Logo তফসিল ঘোষণা হলেও চূড়ান্ত হয়নি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা; বিজেপি-তৃণমূল লড়াই তুঙ্গে Logo দেড় বছরের মেয়ের বিরল রোগের কথা জানিয়ে ভেঙে পড়েছেন বরুণ ধাওয়ান Logo ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নেয়ায় ভিসা পেলেন না ওয়ারফেজের কমল Logo এ ভালোবাসাই আমার শক্তি: শাকিব খান

তফসিল ঘোষণা হলেও চূড়ান্ত হয়নি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা; বিজেপি-তৃণমূল লড়াই তুঙ্গে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভোটের তারিখ ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলো প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে। তবে এখনও রাজ্যটির ভোটার তালিকায় চূড়ান্তভাবে জানা যাচ্ছে না। এ নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের ময়দানে পরস্পরের বিরুদ্ধে এটিকে বড় ইস্যু হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে। আর ভুক্তভোগী ভোটাররা তালিকায় নাম তুলতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ, মিছিল ও বিক্ষোভ করছেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গত মাসে দেশটির পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের তফসিল ঘোষণা করেছে। আসাম, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কেরালা এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও ভোট হচ্ছে। তবে নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরও নির্বাচন কমিশন রাজ্যটিতে এখনও ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করতে না পারার কারণে বাকি চার রাজ্যের তুলনায় বেশি আলোচনায় এসেছে পশ্চিমবঙ্গ।

২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর সময় রাজ্যটিতে ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লাখ। চূড়ান্ত সংশোধনীতে ৬৩ লাখ ভোটারের নাম বাদ যায়। আর সেই সময় সন্দেহজনক ভোটার হিসেবে বিচারাধীন তালিকায় প্রায় ৬৬ লাখ ভোটারের নাম শনাক্ত হয়। দেশটির শীর্ষ আদালতের নির্দেশে বিচারকদের তত্ত্বাবধানে এখনও সেই সন্দেহভাজন ভোটারদের নাম বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। এরইমধ্যে ২২ লাখ নামের তালিকা প্রকাশ হয়েছে, যাদের মধ্যে বাদ পড়েছেন প্রায় ১৬ লাখ। আর এখনও সেই চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই চলছে।

মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ কুমার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন তার সব শক্তি দিয়ে চেষ্টা করছে। দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে অতিরিক্ত লোকবল নামানো হয়েছে। ধাপে ধাপে সন্দেহভাজন ভোটারদের নাম জুডিশিয়াল কর্মকর্তারা বাছাই করে প্রকাশ করছেন।’

ঠিক এমন এক বাস্তবতায় রাজ্যের প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবির তৃণমূল ও বিজেপি ভোটের ময়দানে একে অপরকে ঘায়েল করতে পিছপা হচ্ছে না।

বিজেপির দাবি, ভারতের আর কোনো রাজ্যে এমন নজিরবিহীন ঘটনা নেই, যেখানে ভোটব্যাংকের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার করা হয়েছে।

বিজেপি বলছে, তারা একে একে অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করবে। আর এর জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন দলটির শীর্ষ নেতা ও দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উল্টো বিজেপিকেও একহাত নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

মমতা বলেছেন, এসআইআর আতঙ্কে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের আত্মাও এবারে ভোটবাক্স পাহারা দেবেন।

এদিকে এক দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে কলকাতায় এসে বিজেপি শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কার্যত তৃণমূলের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ তুলেছেন।

বিজেপির ঘোষিত এই রাজনৈতিক চার্জশিট ঘোষণায় অমিত শাহ বলেন, ‘দিদি, আমি আপনাকে বলতে চাই, আপনার ভিকটিম কার্ডের রাজনীতি বাংলার মানুষ ভালো করেই বুঝে গেছেন। নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থার ওপর গালিগালাজ করা বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। আজ আমি এসআইআর নিয়ে কিছু কথাও খুলে বলছি। এসআইআর গোটা দেশেই হয়েছে, কিন্তু কোথাও জুডিশিয়াল কর্মকর্তাদের নিয়োগ করতে হয়নি, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই করতে হয়েছে। তামিলনাড়ু ও কেরালাতেও এসআইআর হয়েছে, কিন্তু কোনো কোর্ট কেস হয়নি। দুটো রাজ্যেই অ-বিজেপি সরকার। কিন্তু বাংলায় এমন কী হলো, যে সুপ্রিম কোর্টকে জুডিশিয়াল কর্মকর্তাদের ভোটার তালিকা সংশোধনীর কাজে নির্দেশ দিতে হলো? এর উত্তর পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে মমতা ব্যানার্জিকে দিতেই হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করেছেন, সেই তৃণমূলকে আপনারা কি বাংলায় ভোট দেবেন? আমরা কথা দিয়েছি, শুধু ভোটার তালিকা থেকেই নয়, ভারত থেকেও একে একে খুঁজে খুঁজে অনুপ্রবেশকারীদের বের করব।’

অন্যদিকে ভোটের প্রচারে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন পুরুলিয়ার নির্বাচনী সভায় নিজের সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়েও বিজেপিকে তুলোধুনো করেন। বিশেষ করে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যে দুই শতাধিক মানুষ মারা গিয়েছেন। এই মৃতদের আত্মা ব্যালট বাক্স পাহারা দেবেন।’

এ সময় বিজেপিকে স্বৈরাচার বলেও কটাক্ষ করেন মমতা।

এদিকে, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের নামে দেশের সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং বিশেষ একটি ধর্মকে টার্গেট করে নাম বাদ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে রাজপথে নেমেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। শনিবার কলকাতায় এক প্রতিবাদ মিছিলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও দেখা যায়।

সুত্রঃ এনডিটিভি

জনপ্রিয় সংবাদ

হুতিদের যুদ্ধে প্রবেশে শঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতি, ঝুঁকিতে তেল ও বাণিজ্যের প্রধান জলপথ

তফসিল ঘোষণা হলেও চূড়ান্ত হয়নি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা; বিজেপি-তৃণমূল লড়াই তুঙ্গে

প্রকাশিত: ০৫:৫১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভোটের তারিখ ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলো প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে। তবে এখনও রাজ্যটির ভোটার তালিকায় চূড়ান্তভাবে জানা যাচ্ছে না। এ নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের ময়দানে পরস্পরের বিরুদ্ধে এটিকে বড় ইস্যু হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে। আর ভুক্তভোগী ভোটাররা তালিকায় নাম তুলতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ, মিছিল ও বিক্ষোভ করছেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গত মাসে দেশটির পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের তফসিল ঘোষণা করেছে। আসাম, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কেরালা এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও ভোট হচ্ছে। তবে নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরও নির্বাচন কমিশন রাজ্যটিতে এখনও ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করতে না পারার কারণে বাকি চার রাজ্যের তুলনায় বেশি আলোচনায় এসেছে পশ্চিমবঙ্গ।

২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর সময় রাজ্যটিতে ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লাখ। চূড়ান্ত সংশোধনীতে ৬৩ লাখ ভোটারের নাম বাদ যায়। আর সেই সময় সন্দেহজনক ভোটার হিসেবে বিচারাধীন তালিকায় প্রায় ৬৬ লাখ ভোটারের নাম শনাক্ত হয়। দেশটির শীর্ষ আদালতের নির্দেশে বিচারকদের তত্ত্বাবধানে এখনও সেই সন্দেহভাজন ভোটারদের নাম বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। এরইমধ্যে ২২ লাখ নামের তালিকা প্রকাশ হয়েছে, যাদের মধ্যে বাদ পড়েছেন প্রায় ১৬ লাখ। আর এখনও সেই চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই চলছে।

মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ কুমার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন তার সব শক্তি দিয়ে চেষ্টা করছে। দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে অতিরিক্ত লোকবল নামানো হয়েছে। ধাপে ধাপে সন্দেহভাজন ভোটারদের নাম জুডিশিয়াল কর্মকর্তারা বাছাই করে প্রকাশ করছেন।’

ঠিক এমন এক বাস্তবতায় রাজ্যের প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবির তৃণমূল ও বিজেপি ভোটের ময়দানে একে অপরকে ঘায়েল করতে পিছপা হচ্ছে না।

বিজেপির দাবি, ভারতের আর কোনো রাজ্যে এমন নজিরবিহীন ঘটনা নেই, যেখানে ভোটব্যাংকের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার করা হয়েছে।

বিজেপি বলছে, তারা একে একে অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করবে। আর এর জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন দলটির শীর্ষ নেতা ও দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উল্টো বিজেপিকেও একহাত নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

মমতা বলেছেন, এসআইআর আতঙ্কে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের আত্মাও এবারে ভোটবাক্স পাহারা দেবেন।

এদিকে এক দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে কলকাতায় এসে বিজেপি শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কার্যত তৃণমূলের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ তুলেছেন।

বিজেপির ঘোষিত এই রাজনৈতিক চার্জশিট ঘোষণায় অমিত শাহ বলেন, ‘দিদি, আমি আপনাকে বলতে চাই, আপনার ভিকটিম কার্ডের রাজনীতি বাংলার মানুষ ভালো করেই বুঝে গেছেন। নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থার ওপর গালিগালাজ করা বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। আজ আমি এসআইআর নিয়ে কিছু কথাও খুলে বলছি। এসআইআর গোটা দেশেই হয়েছে, কিন্তু কোথাও জুডিশিয়াল কর্মকর্তাদের নিয়োগ করতে হয়নি, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই করতে হয়েছে। তামিলনাড়ু ও কেরালাতেও এসআইআর হয়েছে, কিন্তু কোনো কোর্ট কেস হয়নি। দুটো রাজ্যেই অ-বিজেপি সরকার। কিন্তু বাংলায় এমন কী হলো, যে সুপ্রিম কোর্টকে জুডিশিয়াল কর্মকর্তাদের ভোটার তালিকা সংশোধনীর কাজে নির্দেশ দিতে হলো? এর উত্তর পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে মমতা ব্যানার্জিকে দিতেই হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করেছেন, সেই তৃণমূলকে আপনারা কি বাংলায় ভোট দেবেন? আমরা কথা দিয়েছি, শুধু ভোটার তালিকা থেকেই নয়, ভারত থেকেও একে একে খুঁজে খুঁজে অনুপ্রবেশকারীদের বের করব।’

অন্যদিকে ভোটের প্রচারে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন পুরুলিয়ার নির্বাচনী সভায় নিজের সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়েও বিজেপিকে তুলোধুনো করেন। বিশেষ করে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যে দুই শতাধিক মানুষ মারা গিয়েছেন। এই মৃতদের আত্মা ব্যালট বাক্স পাহারা দেবেন।’

এ সময় বিজেপিকে স্বৈরাচার বলেও কটাক্ষ করেন মমতা।

এদিকে, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের নামে দেশের সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং বিশেষ একটি ধর্মকে টার্গেট করে নাম বাদ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে রাজপথে নেমেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। শনিবার কলকাতায় এক প্রতিবাদ মিছিলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও দেখা যায়।

সুত্রঃ এনডিটিভি