লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি পরিবারের সদস্যদের ওপর দুই দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) উপজেলার উত্তর টামটা এলাকার রৌশন আলী পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে টামটা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম পাটোয়ারীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ স্থানীয় একটি বিবাদ মীমাংসার শালিসকে কেন্দ্র করে খোরশেদ আলম পাটোয়ারীর সঙ্গে অভিযোগকারীর চাচাতো ভাই যুবদল নেতা শাহজাহান (৩৭)-এর কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে প্রথম দফায় শাহজাহান ও আজাদ হোসেন (৪৩)-এর ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা লোহার পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে শাহজাহানের মাথা ফেটে যায় এবং আজাদ হোসেনের বাম হাত ভেঙে যায়।
আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর একই দিন দুপুর ১২টার দিকে হামলাকারীরা পুনরায় জাহাঙ্গীর আলমের বসতঘরে প্রবেশ করে দ্বিতীয় দফা হামলা চালায়। এ সময় নার্গিস বেগম (৪৪) ও ফিরোজা বেগম (৬০)-কে শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতি করেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশে অভিযোগ করলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
বর্তমানে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “অভিযুক্তরা দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির। তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং নারীদের ওপরও নির্যাতন করেছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত খোরশেদ আলম পাটোয়ারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আগের একটি বিরোধের জেরে আজাদ নামে একজন আমাকে মারধর করেছে। এ বিষয়ে আমরা আগেই থানায় অভিযোগ করেছি।”
এ ঘটনায় টামটা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম পাটোয়ারীসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মো. তামজিদ হোসেন রুবেল, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি 



















