বাংলাদেশ ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি করলেন ওসি

নওগাঁয় ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে মিঠু হাসান নামে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাধারন ডায়েরী (জিডি) করেছেন বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান।

গত ১৮ মার্চ সংবাদটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদীত হিসেবে দাবী করে তিনি এ জিডি করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে ‘৩ হাজারের ফোনে ঘুষ দাবি ৪ হাজার টাকা’ শিরোনামে বদলগাছী থানা পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবীর অভিযোগ তুলে ধরে আজকের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক মিঠু হাসান। তিনি ওই পত্রিকায় বদলগাছী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল একটি স্মার্টফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বদলগাছী থানায় জিডি করেছিলেন বিউটি বেগম নামে এক নারী। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিউটি বেগমের মুঠোফোনে কল করে তাকে থানা ডেকে নেন আজিজার নামে এক উপ পরির্দশক (এসআই)। এরপর ফোনটির অবস্থান শনাক্ত হয়েছে জানিয়ে তা উদ্ধারে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন আজিজার। পরে পুলিশের ঘুষ দাবীর এ বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তুলে ধরেন বিউটি বেগম। এরপর বিষয়টি নিয়ে আজকের পত্রিকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন নিউজপোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলে আলোচনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যকে থানার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করে জেলা পুলিশ। এ ঘটনা ক্ষতিয়ে দেখতে গঠিত হয় তদন্ত কমিটিও। এর মাঝেই বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান সংবাদটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদীত হিসেবে দাবী করে ১৮ মার্চ দায়েরকৃত জিডিতে উল্লেখ করেন “গত বছর নিহার চন্দ্র নামে এক এসআই মোবাইল হারানোর এই জিডিটি তদন্ত করেছিলেন। আজিজার রহমান নামে কোন এসআই তার থানায় কর্মরত নেই। তবে এএম আজিজুর রহমান নামে এক পিএসআই তার থানায় কর্মরত আছেন। প্রাথমিক তদন্তে এ সংবাদের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি”।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “সাংবাদিক পরিচয়ধারী মো. মিঠু হাসান সত্যতা যাচাই না করেই উক্ত বিষয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরীভুক্ত করা হলো’।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মিঠু হাসান বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তথ্য প্রমাণ যাচাই করেই সংবাদ প্রকাশ করেছি। এরপর থেকেই আমার বিরুদ্ধে জিডি করে আমাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছেন ওসি। এটি স্পষ্টভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ভয় দেখানো এবং দমিয়ে রাখার একটি অপচেষ্টা। এই জিডির মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কোনো চাপ বা ভয়ভীতি আমাকে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান এর ব্যবহৃত সরকারি নম্বরে কল করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানানো হয়।

বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক মিঠুর বিরুদ্ধে একটি জিডি হয়েছে এমন কথা আমিও শুনেছি। তবে ওসি স্যার সেটি করেছেন কি না আমার জানা নেই।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, যেকোনো ঘটনায় প্রয়োজনে পুলিশ জিডি করতেই পারে। তবে ওই জিডিতে ভাষাগত ত্রুটি আমরা লক্ষ করেছি। এখানে ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিডি করার সুযোগ নেই। ঘটনা সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করে জিডি করতে হয়। আগামীতে বিষয়টি খেয়াল রাখতে ওসিকে সতর্ক করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকাশিত সংবাদ নজরে আসার পরপরই ওই এসআইকে ক্লোজড করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থ্যা নেওয়া হবে।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি করলেন ওসি

প্রকাশিত: ১১:১১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

নওগাঁয় ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে মিঠু হাসান নামে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাধারন ডায়েরী (জিডি) করেছেন বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান।

গত ১৮ মার্চ সংবাদটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদীত হিসেবে দাবী করে তিনি এ জিডি করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে ‘৩ হাজারের ফোনে ঘুষ দাবি ৪ হাজার টাকা’ শিরোনামে বদলগাছী থানা পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবীর অভিযোগ তুলে ধরে আজকের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক মিঠু হাসান। তিনি ওই পত্রিকায় বদলগাছী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল একটি স্মার্টফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বদলগাছী থানায় জিডি করেছিলেন বিউটি বেগম নামে এক নারী। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিউটি বেগমের মুঠোফোনে কল করে তাকে থানা ডেকে নেন আজিজার নামে এক উপ পরির্দশক (এসআই)। এরপর ফোনটির অবস্থান শনাক্ত হয়েছে জানিয়ে তা উদ্ধারে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন আজিজার। পরে পুলিশের ঘুষ দাবীর এ বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তুলে ধরেন বিউটি বেগম। এরপর বিষয়টি নিয়ে আজকের পত্রিকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন নিউজপোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলে আলোচনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যকে থানার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করে জেলা পুলিশ। এ ঘটনা ক্ষতিয়ে দেখতে গঠিত হয় তদন্ত কমিটিও। এর মাঝেই বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান সংবাদটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদীত হিসেবে দাবী করে ১৮ মার্চ দায়েরকৃত জিডিতে উল্লেখ করেন “গত বছর নিহার চন্দ্র নামে এক এসআই মোবাইল হারানোর এই জিডিটি তদন্ত করেছিলেন। আজিজার রহমান নামে কোন এসআই তার থানায় কর্মরত নেই। তবে এএম আজিজুর রহমান নামে এক পিএসআই তার থানায় কর্মরত আছেন। প্রাথমিক তদন্তে এ সংবাদের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি”।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “সাংবাদিক পরিচয়ধারী মো. মিঠু হাসান সত্যতা যাচাই না করেই উক্ত বিষয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরীভুক্ত করা হলো’।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মিঠু হাসান বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তথ্য প্রমাণ যাচাই করেই সংবাদ প্রকাশ করেছি। এরপর থেকেই আমার বিরুদ্ধে জিডি করে আমাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছেন ওসি। এটি স্পষ্টভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ভয় দেখানো এবং দমিয়ে রাখার একটি অপচেষ্টা। এই জিডির মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কোনো চাপ বা ভয়ভীতি আমাকে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান এর ব্যবহৃত সরকারি নম্বরে কল করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানানো হয়।

বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক মিঠুর বিরুদ্ধে একটি জিডি হয়েছে এমন কথা আমিও শুনেছি। তবে ওসি স্যার সেটি করেছেন কি না আমার জানা নেই।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, যেকোনো ঘটনায় প্রয়োজনে পুলিশ জিডি করতেই পারে। তবে ওই জিডিতে ভাষাগত ত্রুটি আমরা লক্ষ করেছি। এখানে ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিডি করার সুযোগ নেই। ঘটনা সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করে জিডি করতে হয়। আগামীতে বিষয়টি খেয়াল রাখতে ওসিকে সতর্ক করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকাশিত সংবাদ নজরে আসার পরপরই ওই এসআইকে ক্লোজড করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থ্যা নেওয়া হবে।