বাংলাদেশ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে

২৬ মরদেহ উদ্ধার, পদ্মা পাড়ে স্বজনদের আহাজারি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ভোররাত পর্যন্ত ২৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

নতুন করে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উজ্জ্বল খান (৩০), সাড়ে ১০টার দিকে আশরাফুল (৩৫) এবং বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে মো. জাহাঙ্গীর (৫৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে মোট উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। এর মধ্যে ২৩টি মরদেহ ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি তিনটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে পদ্মা নদীর তীরে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা হয়ে উঠেছে হৃদয়বিদারক।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার অভিযানে পাঁচটি ইউনিটের ১৫ জন ডুবুরি কাজ করছেন। পাশাপাশি কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরাও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে প্রশাসনের সর্বোচ্চ তৎপরতা বজায় রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা মাইকিং করে নিখোঁজদের স্বজনদের যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

ঘটনার বিষয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহন ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, বিকেল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ঘাটে পৌঁছে ফেরির অপেক্ষায় ছিল। এ সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ফেরি পন্টুনে জোরে ধাক্কা দিলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে

২৬ মরদেহ উদ্ধার, পদ্মা পাড়ে স্বজনদের আহাজারি

প্রকাশিত: ০১:০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ভোররাত পর্যন্ত ২৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

নতুন করে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উজ্জ্বল খান (৩০), সাড়ে ১০টার দিকে আশরাফুল (৩৫) এবং বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে মো. জাহাঙ্গীর (৫৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে মোট উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। এর মধ্যে ২৩টি মরদেহ ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি তিনটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে পদ্মা নদীর তীরে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা হয়ে উঠেছে হৃদয়বিদারক।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার অভিযানে পাঁচটি ইউনিটের ১৫ জন ডুবুরি কাজ করছেন। পাশাপাশি কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরাও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে প্রশাসনের সর্বোচ্চ তৎপরতা বজায় রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা মাইকিং করে নিখোঁজদের স্বজনদের যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

ঘটনার বিষয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহন ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, বিকেল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ঘাটে পৌঁছে ফেরির অপেক্ষায় ছিল। এ সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ফেরি পন্টুনে জোরে ধাক্কা দিলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।