দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার গুঞ্জন কাটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রবীণ নেতা আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পুত্র রেজভিউল আহসান মুন্সী। গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভাঙেন। একইসাথে এই প্রতিবেদকের হাতে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের দাপ্তরিক নথিপত্র (ডিভোর্স লেটার) পৌঁছেছে, যা তার বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে।
ভিডিও বার্তায় রেজভিউল আহসান মুন্সী জানান যে, তিনি নিখোঁজ হননি বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক ষড়যন্ত্র, ব্ল্যাকমেইল এবং সুপরিকল্পিত মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।
ষড়যন্ত্র ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার
রেজভিউল আহসান মুন্সী উল্লেখ করেন, ২০১২ সালে ফারজানা বুবলির সাথে বিয়ের পর থেকেই তার জীবনে অশান্তি শুরু হয়। তার অভিযোগ, তার প্রাক্তন স্ত্রী শুরু থেকেই তার এবং তার বাবা-মায়ের মাঝে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করেছেন। ২০১৯ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে তাকে তার সন্তানদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়।
তিনি বলেন, “সন্তানদের দেখার জন্য আমি ভিখারির মতো হাত পাততাম, কিন্তু কোনো স্বার্থ ছাড়া আমাকে আমার কলিজার টুকরাদের মুখ দেখতে দেওয়া হতো না”। এছাড়া ২০২০ সালে তার একটি ব্যক্তিগত ভিডিও গোপনে ধারণ করে তাকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
রাজনৈতিক স্বার্থ ও ‘গুম নাটক’
২০২৬-এর নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। রেজভিউল আহসান মুন্সীর দাবি, ফারজানা বুবলি নিজেকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পুত্রবধূ পরিচয় দিয়ে দেবিদ্বারে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এই রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই তাকে (রেজভিউল) সমাজ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সুপরিকল্পিতভাবে সুস্থ অবস্থায় একটি মানসিক হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছিল।
তিনি জানান, গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি দেবিদ্বারের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের চাপের মুখে তিনি মুক্তি পান। তার অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়ে যে ‘গুম হওয়ার’ গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা মূলত তাকে সরিয়ে দেওয়ার একটি সাজানো নাটক ছিল বলে তিনি মনে করেন।
দেবিদ্বারে ফেরার ঘোষণা
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে রেজভিউল আহসান মুন্সী ঘোষণা করেন যে, তিনি আর ঢাকাতে থাকবেন না এবং খুব শীঘ্রই তার শিকড় দেবিদ্বারে ফিরে আসছেন। দেবিদ্বারবাসীর প্রতি আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা ছাড়া আমার যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। এই অসহায় ছেলেটাকে শুধু একটা সুযোগ দিন এবং কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান দেবেন না”।
মেহেদী হাসান রিয়াদ 





















