বাংলাদেশ ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

তরুণ সাহাবিকে মহানবী (সা.)-এর নসিহত

  • ইসলামিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত: ০২:৩১:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • ১৯০ বার দেখা হয়েছে

প্রতিটি মানুষ চায় তার জীবন সুখময় হোক। বিশেষ করে প্রতিটি মুমিনই চায়, তার দুনিয়া আখিরাত সুখময় হোক। সাফল্যমণ্ডিত হোক। বরকতময় হোক। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই সুখপাখির পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজের গোটা জীবন শেষ করে দেয়, কিন্তু সুখের দিশা পায় না। আল্লাহর বিশেষ রহমত ছাড়া দুনিয়ার সবকিছু দিয়েও সুখ পাওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত, জীবনকে যেভাবে সাজালে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত পাওয়া যায়, সেভাবে সাজানো।

আমাদের প্রিয় নবী (সা.) একদিন ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বিশেষ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন, যেগুলোর মধ্যে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও নিরাপত্তা লাভের সূত্র রয়েছে। হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো এক সময় আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিছনে ছিলাম। তিনি বলেন, হে তরুণ! আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিচ্ছি- তুমি আল্লাহ তাআলার (বিধি-নিষেধের) রক্ষা করবে, আল্লাহ তাআলা তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখবে, আল্লাহ তাআলাকে তুমি কাছে পাবে। তোমার কোনো কিছু চাওয়ার প্রয়োজন হলে আল্লাহ তাআলার কাছে চাও, আর সাহায্য প্রার্থনা করতে হলে আল্লাহ তাআলার নিকটেই কর। আর জেনে রাখো, যদি সকল উম্মতও তোমার কোনো উপকারের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে ততটুকু উপকারই করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। অপরদিকে যদি সকল উম্মত তোমার কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ হয়, তাহলে ততটুকু ক্ষতিই করতে সক্ষম হবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার তাকদিরে লিখে রেখেছেন। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং লিখিত কাগজসমূহও শুকিয়ে গেছে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৬)

এই হাদিসটিতে মহানবী (সা.) তাকদির, তাওয়াক্কুল এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের গুরুত্বারোপ করেছেন।

প্রিয় নবী (সা.) কর্তৃক তাঁর চাচাতো ভাই এবং কোরআনের প্রখ্যাত মুফাসসির ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বলা এই অমূল্য কথাগুলো শুধু ইবন আব্বাস (রা.)-এর জন্য নয়, সমগ্র মুসলিম উম্মাহের জন্য পথপ্রদর্শক। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, আল্লাহর বিশেষ রহমত পেতে হলে অবশ্যই তাঁর আদেশ ও নিষেধ পালনে যত্নবান হতে হবে। আল্লাহর ওপর প্রবল বিশ্বাস রাখতে হবে। সকল আশা-ভরসা একমাত্র আল্লাহর ওপরই রাখতে হবে। আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ বান্দার ভালো কিংবা মন্দ করতে পারে না। আল্লাহই একমাত্র আশ্রয়স্থল।.

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো ক্ষতি পৌঁছান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহের কোন প্রতিরোধকারী নেই। তিনি তার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু’। (সুরা ইউনুস, আয়াত : ১০৭)

আমাদের মহানবী (সা.) প্রতি নামাজের এই দোয়া করতেন, অর্থ : ‘এক আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য, তিনি সব কিছুই উপরই ক্ষমতাশীল। হে আল্লাহ! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আপনার নিকট (সত্কাজ ভিন্ন) কোন সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসে না। (নাসায়ি, হাদিস : ১৩৪২)
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে হাদিস মোতাবেক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ সাহাবিকে মহানবী (সা.)-এর নসিহত

প্রকাশিত: ০২:৩১:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

প্রতিটি মানুষ চায় তার জীবন সুখময় হোক। বিশেষ করে প্রতিটি মুমিনই চায়, তার দুনিয়া আখিরাত সুখময় হোক। সাফল্যমণ্ডিত হোক। বরকতময় হোক। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই সুখপাখির পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজের গোটা জীবন শেষ করে দেয়, কিন্তু সুখের দিশা পায় না। আল্লাহর বিশেষ রহমত ছাড়া দুনিয়ার সবকিছু দিয়েও সুখ পাওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত, জীবনকে যেভাবে সাজালে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত পাওয়া যায়, সেভাবে সাজানো।

আমাদের প্রিয় নবী (সা.) একদিন ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বিশেষ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন, যেগুলোর মধ্যে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও নিরাপত্তা লাভের সূত্র রয়েছে। হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো এক সময় আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিছনে ছিলাম। তিনি বলেন, হে তরুণ! আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিচ্ছি- তুমি আল্লাহ তাআলার (বিধি-নিষেধের) রক্ষা করবে, আল্লাহ তাআলা তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখবে, আল্লাহ তাআলাকে তুমি কাছে পাবে। তোমার কোনো কিছু চাওয়ার প্রয়োজন হলে আল্লাহ তাআলার কাছে চাও, আর সাহায্য প্রার্থনা করতে হলে আল্লাহ তাআলার নিকটেই কর। আর জেনে রাখো, যদি সকল উম্মতও তোমার কোনো উপকারের উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে ততটুকু উপকারই করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। অপরদিকে যদি সকল উম্মত তোমার কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ হয়, তাহলে ততটুকু ক্ষতিই করতে সক্ষম হবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার তাকদিরে লিখে রেখেছেন। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং লিখিত কাগজসমূহও শুকিয়ে গেছে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৬)

এই হাদিসটিতে মহানবী (সা.) তাকদির, তাওয়াক্কুল এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের গুরুত্বারোপ করেছেন।

প্রিয় নবী (সা.) কর্তৃক তাঁর চাচাতো ভাই এবং কোরআনের প্রখ্যাত মুফাসসির ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বলা এই অমূল্য কথাগুলো শুধু ইবন আব্বাস (রা.)-এর জন্য নয়, সমগ্র মুসলিম উম্মাহের জন্য পথপ্রদর্শক। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, আল্লাহর বিশেষ রহমত পেতে হলে অবশ্যই তাঁর আদেশ ও নিষেধ পালনে যত্নবান হতে হবে। আল্লাহর ওপর প্রবল বিশ্বাস রাখতে হবে। সকল আশা-ভরসা একমাত্র আল্লাহর ওপরই রাখতে হবে। আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ বান্দার ভালো কিংবা মন্দ করতে পারে না। আল্লাহই একমাত্র আশ্রয়স্থল।.

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো ক্ষতি পৌঁছান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহের কোন প্রতিরোধকারী নেই। তিনি তার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু’। (সুরা ইউনুস, আয়াত : ১০৭)

আমাদের মহানবী (সা.) প্রতি নামাজের এই দোয়া করতেন, অর্থ : ‘এক আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য, তিনি সব কিছুই উপরই ক্ষমতাশীল। হে আল্লাহ! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আপনার নিকট (সত্কাজ ভিন্ন) কোন সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসে না। (নাসায়ি, হাদিস : ১৩৪২)
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে হাদিস মোতাবেক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।