বাংলাদেশ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার সংযোগের পরও ভূতুরে বিল, ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: ০৫:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮৪ বার দেখা হয়েছে

কুমিল্লা বিদ্যুৎ বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ–৩ এ ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে সহকারী প্রকৌশলী এবং মিটার রিডারদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রিপেইড মিটার স্থাপনের জন্য একাধিকবার গ্রাহকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারও কারও ক্ষেত্রে বকেয়া বিল পরিশোধ করার পরও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। পুনরায় সংযোগ নিতে হলে বকেয়া বিল জরিমানাসহ প্রিপেইড মিটার প্রতিস্থাপনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কয়েক মাস পর অনেকের কাছে ‘ভূতুড়ে বিল’ আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধ করার পরও এমন বিল আসায় গ্রাহকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এমনকি বিল পরিশোধের পরও প্রিপেইড মিটার লক করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

মিটার লক হয়ে যাওয়ার কারণে কয়েকজন গ্রাহক মিটারে টাকা প্রবেশ করাতে পারছেন না। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের প্রশ্ন—বকেয়া বিল পরিশোধ করার পরও কেন মিটার লক করা হচ্ছে?

এই ভোগান্তির সমাধানে অনেক গ্রাহক বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েও সুরাহা পাননি। বর্তমানে রমজান মাসে দাপ্তরিক সময় বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করায় অনেকেই অফিসে গিয়ে বন্ধ পেয়েছেন, ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেহরির সময় অনেক পরিবারকে মোমবাতি জ্বালিয়ে খাবার খেতে হয়েছে।

মিটারে টাকা প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হওয়ায় কারও কারও বাড়িতে ফ্রিজে রাখা কাঁচা খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের তীর মিটার রিডার আনিসের দিকেও। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মিটারে ইউনিট জমা না দেখিয়ে গ্রাহকদের মোটা অঙ্কের বিল ধরিয়ে দিচ্ছেন। তবে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী আয়ুব আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি একটি মামলার কাজে আদালতে রয়েছেন। মিটার লক সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, “লক-আনলক বিষয়টি আমার মাধ্যমে হয়নি। যেখান থেকে আনলক করা হয়েছে, সেখানেই কথা বলতে হবে। লক করার বিষয়টি ঢাকা থেকে হয়, আর আনলক করা হয় স্থানীয়ভাবে।”

পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি আমার দায়িত্ব নয়। এখানে কাজ ভাগ করা আছে। আমার দায়িত্ব মূলত লাইনের সমস্যা দেখা।”

নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজের সঙ্গে তার অফিসে সরাসরি কথা বলতে গেলে তিনি কাগজপত্র দেখে জানান, বিল পরিশোধ করা হলেও আপডেট হতে এক মাস সময় লাগতে পারে। প্রশ্ন করা হয়—বিল পরিশোধের কাগজ দেখিয়ে মিটার আনলক করার পর আবার কেন লক করা হলো? উত্তরে তিনি জানতে চান, বিল ১০১ নম্বর রুমে দেখানো হয়েছিল কি না।

ভুক্তভোগী জানান, বিল না দেখালে মিটার আনলক করা সম্ভব হতো না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “বিষয়টি দেখবো।”

রমজানে মিটার লক থাকার কারণে টাকা প্রবেশ করাতে না পেরে খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হওয়ার দায়ভার কে নেবে—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি দেখছি।”

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় এক রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতিবেদকের ওপর ফোন করা হয়, যা সংবাদ পরিবেশনে প্রতিবন্ধকতা ও হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এত অভিযোগের পরও যদি নির্বাহী প্রকৌশলী কিছু না জানেন—তাহলে দায় কার? সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীলদের গাফিলতির তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার সংযোগের পরও ভূতুরে বিল, ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী

প্রকাশিত: ০৫:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লা বিদ্যুৎ বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ–৩ এ ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে সহকারী প্রকৌশলী এবং মিটার রিডারদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রিপেইড মিটার স্থাপনের জন্য একাধিকবার গ্রাহকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারও কারও ক্ষেত্রে বকেয়া বিল পরিশোধ করার পরও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। পুনরায় সংযোগ নিতে হলে বকেয়া বিল জরিমানাসহ প্রিপেইড মিটার প্রতিস্থাপনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কয়েক মাস পর অনেকের কাছে ‘ভূতুড়ে বিল’ আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধ করার পরও এমন বিল আসায় গ্রাহকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এমনকি বিল পরিশোধের পরও প্রিপেইড মিটার লক করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

মিটার লক হয়ে যাওয়ার কারণে কয়েকজন গ্রাহক মিটারে টাকা প্রবেশ করাতে পারছেন না। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের প্রশ্ন—বকেয়া বিল পরিশোধ করার পরও কেন মিটার লক করা হচ্ছে?

এই ভোগান্তির সমাধানে অনেক গ্রাহক বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েও সুরাহা পাননি। বর্তমানে রমজান মাসে দাপ্তরিক সময় বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করায় অনেকেই অফিসে গিয়ে বন্ধ পেয়েছেন, ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেহরির সময় অনেক পরিবারকে মোমবাতি জ্বালিয়ে খাবার খেতে হয়েছে।

মিটারে টাকা প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হওয়ায় কারও কারও বাড়িতে ফ্রিজে রাখা কাঁচা খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের তীর মিটার রিডার আনিসের দিকেও। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মিটারে ইউনিট জমা না দেখিয়ে গ্রাহকদের মোটা অঙ্কের বিল ধরিয়ে দিচ্ছেন। তবে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী আয়ুব আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি একটি মামলার কাজে আদালতে রয়েছেন। মিটার লক সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, “লক-আনলক বিষয়টি আমার মাধ্যমে হয়নি। যেখান থেকে আনলক করা হয়েছে, সেখানেই কথা বলতে হবে। লক করার বিষয়টি ঢাকা থেকে হয়, আর আনলক করা হয় স্থানীয়ভাবে।”

পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি আমার দায়িত্ব নয়। এখানে কাজ ভাগ করা আছে। আমার দায়িত্ব মূলত লাইনের সমস্যা দেখা।”

নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজের সঙ্গে তার অফিসে সরাসরি কথা বলতে গেলে তিনি কাগজপত্র দেখে জানান, বিল পরিশোধ করা হলেও আপডেট হতে এক মাস সময় লাগতে পারে। প্রশ্ন করা হয়—বিল পরিশোধের কাগজ দেখিয়ে মিটার আনলক করার পর আবার কেন লক করা হলো? উত্তরে তিনি জানতে চান, বিল ১০১ নম্বর রুমে দেখানো হয়েছিল কি না।

ভুক্তভোগী জানান, বিল না দেখালে মিটার আনলক করা সম্ভব হতো না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “বিষয়টি দেখবো।”

রমজানে মিটার লক থাকার কারণে টাকা প্রবেশ করাতে না পেরে খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হওয়ার দায়ভার কে নেবে—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি দেখছি।”

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় এক রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতিবেদকের ওপর ফোন করা হয়, যা সংবাদ পরিবেশনে প্রতিবন্ধকতা ও হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এত অভিযোগের পরও যদি নির্বাহী প্রকৌশলী কিছু না জানেন—তাহলে দায় কার? সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীলদের গাফিলতির তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।