জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের পর দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান। ইতোমধ্যে ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা চলছে।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী নেত্রীরা নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবদানের তথ্য তুলে ধরছেন দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে। সেই তালিকায় পাবনা জেলার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।
রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রদলের দুইবার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় থেকে তিনি মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে এবং ২০১৮ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় প্রায় পাঁচ মাস চার দিন কারাভোগ করেন এবং কয়েকদিন রিমান্ডেও ছিলেন।
এছাড়া বিভিন্ন সময় দলীয় কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহণের সময় তিনি আহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, “ওয়ান ইলেভেন থেকে রাজপথে আছি। দলের দুর্দিনে অনেক মেরুকরণ হয়েছে, কিন্তু আমার ঠিকানা সবসময়ই বিএনপি ও জিয়া পরিবার। দলের জন্য কখনো আপস করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “নারী জাগরণের অগ্রদূত দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন করেছি এবং বর্তমানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় আছি। সংরক্ষিত নারী আসনে দল আমার রাজনৈতিক অবদান মূল্যায়ন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করি।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক অবদান বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নারী নেত্রীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সেই তালিকায় আলোচিত নামগুলোর মধ্যে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমাও রয়েছেন।
মেহেদী হাসান রিয়াদ 
























