রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা-দিঘিনালা সড়কের ১৮ কিলো শুঁকনো ছড়া এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে লেত্তবাপ চাকমা (৪২) নামে ইউপিডিএফের এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
শনিবার ৯ মে ২০২৬ সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত লেত্তবাপ চাকমা এলাকায় ইউপিডিএফের কালেক্টর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ইউপিডিএফের অভিযোগ, তথাকথিত ‘ঠ্যাঙাড়ে মুখোশ বাহিনী’র কমান্ডার বর্ণ চাকমা ও আশীষ ত্রিপুরার নেতৃত্বে ১০–১২ জনের একটি সশস্ত্র দল এ হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
ঘটনাস্থলটি সাজেক, বাঘাইছড়ি ও দিঘিনালা থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো সংগঠন দায় স্বীকার করেনি। সাম্প্রতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা এদিকে, ২০২৬ সালের মে মাসের শুরু থেকেই রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
৭ মে ২০২৬ পানছড়ির ইসলামপুর এলাকায় ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এর সহযোগী সদস্য মো. ইমন হোসেন (২৫) সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। ৮ মে ২০২৬ বাঘাইছড়ি হাছান রাজু নামে এক যুবক সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। ১৮ এপ্রিল ২০২৬ রাঙ্গামাটি কুতুকছড়ি ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে গুলিতে ধর্মশিং চাকমা (৪০) নিহত হন।
২৭ মার্চ ২০২৬ পানছড়ি ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর উপজেলা সমন্বয়ক নীতিদত্ত চাকমা (নিতু) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ৮ এপ্রিল ২০২৬ খাগড়াছড়ি সদর ইউপিডিএফ (মূল)-এর সদস্য নিউটন চাকমা (নির্মল) গুলিতে নিহত হন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সাম্প্রতিক এসব হত্যাকাণ্ডে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত, গুলি, অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
ঘটনার পর শুকনাছড়া, মারিশ্যা ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইউপিডিএফ এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
মো. নাজিম আলী, রাঙামাটি প্রতিনিধি 























