দেশের বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটে জড়িত একটি সিন্ডিকেট এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এ খাতে জড়িতদের কাউকেই শাস্তি বা জবাবদিহির আওতায় আনা যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ ফিরিয়ে আনার কার্যকর কোনো উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দায়মুক্তি আইন বাতিল করে টেন্ডারবিহীন উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পথ বন্ধ করলেও পূর্ববর্তী সময়ের লুটপাটের দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্টো বিভিন্ন সিন্ডিকেট এখনো বিদ্যুৎ খাতের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং উচ্চমূল্যের চুক্তির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন অব্যাহত রেখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রেন্টাল ও আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। এসব কেন্দ্র অনেক সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও অর্থ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে এবং বিদ্যুতের দামও দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করা এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে সমালোচনা রয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার বিদ্যুৎ খাতের লুটপাটের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং ক্যাপাসিটি চার্জের ফাঁদ থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে চুক্তিগত জটিলতার কারণে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে পিডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে করা পুরনো চুক্তির কারণে এখনো উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে এবং ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে খাতটি আর্থিক চাপে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
kalprakash.com/SS
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















