বাংলাদেশ ০৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ছেলের শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশগ্রহণের জেরে বগুড়ায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার Logo ঠাকুরগাঁওয়ে পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু Logo ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়াবাসহ বিকাশ ঘোষ নামের ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo ওয়ার্ল্ড ভিশন রিয়্যাক্টস ইন প্রকল্পের আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ে সুবিধাভোগী পরিবারের মাঝে হাঁস বিতরণ Logo অভিমান করে বাড়ি ছাড়ার পর তরুণের মরদেহ উদ্ধার, চিরকুট জব্দ করেছে পুলিশ Logo ৬৬ কর্মদিবসে ১,২৬৬ মাদক কারবারি ও সেবনকারী গ্রেফতার: পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ Logo পাবিপ্রবিতে ইতিহাস বিভাগের নবীনবরণ ও পাঠদান কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিনির্মাণ করা হবে: মাহদী আমিন Logo নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য নিজেই ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায় Logo বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ বাঁচাতে না পারলে ঢাকা রক্ষা সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

হালাল উপার্জনে ইবাদতের পূর্ণতা: ইসলামি দৃষ্টিতে রিজিকের গুরুত্ব

  • কাল প্রকাশ
  • প্রকাশিত: ০৫:২১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • 29

মানবজীবনে ইবাদত কেবল নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিক আমলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি কাজের উদ্দেশ্য থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। ইসলামি শিক্ষায় ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে হালাল উপার্জনের বিষয়টি গভীরভাবে সম্পর্কিত বলে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে।

কোরআনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের আমি যেসব পবিত্র রিজিক দিয়েছি, তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করো।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৭২) এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, পবিত্র ও বৈধ রিজিক গ্রহণ করা ঈমানদারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসুলরা! তোমরা পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো এবং সৎ কাজ করো।’ (সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৫১) এতে নবী-রাসুলদের জন্যও হালাল খাদ্য গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা মুসলমানদের জন্য এর গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৬১৪) এ থেকে বোঝা যায়, অবৈধ উপার্জন ও হারাম খাদ্য ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রভাবিত করে।

ইসলামি দৃষ্টিতে হালাল উপার্জন কেবল অর্থনৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতিরও ভিত্তি। হালাল উপার্জনের মাধ্যমে মানুষের চরিত্রে সততা, আল্লাহভীতি ও ন্যায়ের চর্চা গড়ে ওঠে। বিপরীতে হারাম উপার্জন নৈতিক অবক্ষয় ও আত্মিক ক্ষতির কারণ হয়।

হাদিসে আরও এসেছে, কিয়ামতের দিন চারটি বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে, যার মধ্যে একটি হলো সম্পদ কোথা থেকে অর্জন করা হয়েছে এবং কোথায় ব্যয় করা হয়েছে। (তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৭)

এজন্য ইসলাম জীবিকা অর্জনে সততা ও বৈধতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। অবৈধ সম্পদ দান বা ইবাদতের মাধ্যমে পাপ মোচন হবে—এমন ধারণাকে ইসলাম সমর্থন করে না।

সব মিলিয়ে, হালাল উপার্জন ছাড়া ইবাদতের পূর্ণতা অর্জন সম্ভব নয়। একজন মুমিনের জন্য প্রয়োজন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হালাল, ন্যায় ও আল্লাহভীতি বজায় রাখা, যা দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার পথ প্রশস্ত করে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

ছেলের শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশগ্রহণের জেরে বগুড়ায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার

হালাল উপার্জনে ইবাদতের পূর্ণতা: ইসলামি দৃষ্টিতে রিজিকের গুরুত্ব

প্রকাশিত: ০৫:২১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মানবজীবনে ইবাদত কেবল নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিক আমলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি কাজের উদ্দেশ্য থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। ইসলামি শিক্ষায় ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে হালাল উপার্জনের বিষয়টি গভীরভাবে সম্পর্কিত বলে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে।

কোরআনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের আমি যেসব পবিত্র রিজিক দিয়েছি, তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করো।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৭২) এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, পবিত্র ও বৈধ রিজিক গ্রহণ করা ঈমানদারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসুলরা! তোমরা পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো এবং সৎ কাজ করো।’ (সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৫১) এতে নবী-রাসুলদের জন্যও হালাল খাদ্য গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা মুসলমানদের জন্য এর গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৬১৪) এ থেকে বোঝা যায়, অবৈধ উপার্জন ও হারাম খাদ্য ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রভাবিত করে।

ইসলামি দৃষ্টিতে হালাল উপার্জন কেবল অর্থনৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতিরও ভিত্তি। হালাল উপার্জনের মাধ্যমে মানুষের চরিত্রে সততা, আল্লাহভীতি ও ন্যায়ের চর্চা গড়ে ওঠে। বিপরীতে হারাম উপার্জন নৈতিক অবক্ষয় ও আত্মিক ক্ষতির কারণ হয়।

হাদিসে আরও এসেছে, কিয়ামতের দিন চারটি বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে, যার মধ্যে একটি হলো সম্পদ কোথা থেকে অর্জন করা হয়েছে এবং কোথায় ব্যয় করা হয়েছে। (তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৭)

এজন্য ইসলাম জীবিকা অর্জনে সততা ও বৈধতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। অবৈধ সম্পদ দান বা ইবাদতের মাধ্যমে পাপ মোচন হবে—এমন ধারণাকে ইসলাম সমর্থন করে না।

সব মিলিয়ে, হালাল উপার্জন ছাড়া ইবাদতের পূর্ণতা অর্জন সম্ভব নয়। একজন মুমিনের জন্য প্রয়োজন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হালাল, ন্যায় ও আল্লাহভীতি বজায় রাখা, যা দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার পথ প্রশস্ত করে।

kalprakash.com/SS