তীব্র তাপদাহের পর দিনের বেলায় খরতাপ থাকলেও রাতে হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে চুয়াডাঙ্গায়। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে জেলার মাঠে মাঠে খেজুর গাছ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রতিটি মাঠেই দেখা যাচ্ছে খেজুর গাছ কাটার ব্যস্ততা।
আর কয়েক সপ্তাহ পরই খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করবেন গাছিরা। সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হবে উন্নতমানের গুড় ও পাটালি। ভেজালমুক্ত ও সুস্বাদু নলেন গুড় এবং পাটালি তৈরিতে সুখ্যাতি রয়েছে এ জেলার কৃষকদের। দেশের বাজারেও চুয়াডাঙ্গার গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
চলতি মৌসুমে গাছিরা প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি গাছ প্রস্তুত করছেন। এতে তাঁদের দৈনিক পারিশ্রমিক হচ্ছে প্রায় এক হাজার টাকা। এ আয়েও খুশি গাছিরা। জেলার চারটি উপজেলার প্রতিটি মাঠে খেজুর গাছ প্রস্তুত করা নিয়ে গাছিদের মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতা চলছে।
প্রতি মৌসুমে খেজুর গাছ কাটা, রস আহরণ এবং গুড় ও পাটালি তৈরির মাধ্যমে যে আয় হয়, তা দিয়েই অনেক গাছি সারা বছরের জীবিকা নির্বাহ করেন।
নভেম্বরের শুরু থেকেই গাছে গাছে মাটির হাঁড়ি ঝোলানো হবে রস সংগ্রহের জন্য।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় খেজুর গাছের সংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার। এসব গাছ থেকে গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৫ কোটি টাকা।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম জানান, এ মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় উৎপাদিত গুড়ের বাজারমূল্য প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।