কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁর সহপাঠীরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ফারজানা ইসলামের সহপাঠীরা এ স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ফারজানার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্তে সহযোগিতা, অপরাধ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।
এ বিষয়ে ফারজানার সহপাঠী নাজমুন নাহার বলেন, ‘ক্যাম্পাসের শুরু থেকেই ফারজানার সঙ্গে আমার পরিচয় ও চলাফেরা। সে খুব শান্ত, ভদ্র ও নম্র স্বভাবের ছিল। তার চলে যাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। কী ঘটেছে, তা নিশ্চিতভাবে না জেনে কিছু বলতে চাই না। আমরা চাই, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন হোক এবং তার পরিবার ন্যায়বিচার পাক।’
ফার্মেসি সোসাইটির ভিপি সোহানুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে ফারজানার সঙ্গে আমাদের পথচলা। সহপাঠীর এমন পরিণতি কখনো কল্পনা করিনি। আমরা চাই, তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন হোক এবং তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে স্মারকলিপি বুঝে পেয়েছি। উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূঁইগড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ফারজানার স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
kalprakash.com/IM