মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ | ১১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:০১:৪৪
শিরোনাম
● এইচএসসি পাসে ২ জেলায় নিয়োগ দেবে অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার ● ঢাকা কর অঞ্চলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, দ্রুত আবেদন করুন ● ধূমপান করলে ঠোঁট কালো হয় কেন? ● বাসের হাইড্রোলিক জ্যাকের ভেতর থেকে ৮৬ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার ● রংপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ভাঙচুর, অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার ২ ● যে কারণে বন্ধ হতে পারে হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রাম ● যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-গ্রিন কার্ড আবেদনে নতুন নিয়ম ● গাজীপুরের সিফাতকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে: নাহিদ ইসলাম ● বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের ● পাকা সেতু না হওয়ায় এলাকাবাসীর প্রতি ডেপুটি স্পিকারের দুঃখ প্রকাশ ● এইচএসসি পাসে ২ জেলায় নিয়োগ দেবে অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার ● ঢাকা কর অঞ্চলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, দ্রুত আবেদন করুন ● ধূমপান করলে ঠোঁট কালো হয় কেন? ● বাসের হাইড্রোলিক জ্যাকের ভেতর থেকে ৮৬ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার ● রংপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ভাঙচুর, অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার ২ ● যে কারণে বন্ধ হতে পারে হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রাম ● যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-গ্রিন কার্ড আবেদনে নতুন নিয়ম ● গাজীপুরের সিফাতকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে: নাহিদ ইসলাম ● বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের ● পাকা সেতু না হওয়ায় এলাকাবাসীর প্রতি ডেপুটি স্পিকারের দুঃখ প্রকাশ

কুবিতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের দাবি

কুবি প্রতিনিধি
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৭
শেয়ার: mail
কুবিতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের দাবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোতাসিম বিল্লাহর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন এবং ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর স্থায়ী বহিষ্কার ও আইনি শাস্তির দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুর হোসেনের কাছে এ স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ২২ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে কটাক্ষ করে একটি পোস্ট দেন। এতে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্ম অবমাননাকারীকে সরাসরি বহিষ্কারের কথা বলা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত মোতাসিম বিল্লাহকে অবিলম্বে বহিষ্কার এবং ক্যাম্পাসে সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর অভিযুক্ত মোতাসিম বিল্লাহ মূর্তিপূজা ও সৃষ্টিকর্তার ধারণা নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বলেন, মানুষ যাঁদের সৃষ্টিকর্তা, জীবন-মৃত্যুর দাতা, রক্ষাকর্তা ও রিজিকদাতা মনে করে পূজা-অর্চনা করেন, তাঁদেরই মানুষ তৈরি করেছে। পরে সেই মূর্তিগুলো পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। পানিতে ডুবে থাকা মূর্তির কাঠ কয়েক দিন পর ভেসে ওঠে এবং তা দিয়ে জেলে বা তীরবর্তী এলাকার মানুষ রান্নার কাজ করেন। যাঁদের শেষ স্থান হয় ময়লা নর্দমা কিংবা গৃহিণীর আগুনের চুলা, তাঁরা কীভাবে সৃষ্টিকর্তা, জীবন-মৃত্যুদাতা, রক্ষাকর্তা বা রিজিকদাতা হতে পারেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ওই পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন মুসলিম। আমার সৃষ্টিকর্তা, জীবন-মৃত্যুদাতা, রক্ষাকর্তা, রিজিকদাতা একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা। যাঁর সম্পর্কে আপনি গবেষণা করলে তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারবেন, ইনশা-আল্লাহ। যাঁর বাণী পবিত্র কোরআনের একটি শব্দের অসত্য প্রমাণিত করার ক্ষমতা দেড় হাজার বছরেও কেউ দেখাতে পারেনি; বরং যাঁরাই অসত্য প্রমাণিত করতে গিয়েছেন, তাঁরাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন, মুসলিম হয়েছেন।’

পোস্টের পর শিক্ষার্থীরা প্রতিক্রিয়া জানালে তিনি পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন। কিছুক্ষণ পর ক্ষমা চেয়ে নিজের আইডিতে আরেকটি পোস্ট করেন। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় অমুসলিম ভাই ও বোনেরা, আপনারা আমাদের দেশের সম্মানিত নাগরিক। আমরা আপনাদের অন্তর থেকে সম্মান করি। আমি এই পোস্টটি আপনাদের ধর্মকে অবমাননা বা অসম্মান করার জন্য করিনি। আমরা আমাদের ধর্মকে যেমন সম্মান করি, বিশ্বাস করি, আপনারাও আপনাদের ধর্মকে বিশ্বাস করেন এবং সম্মান করেন। আমি শুধু আপনাদের ধর্মীয় রীতিনীতি তুলে ধরেছি। এবং আমার মনে কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে, সেগুলো শুধু উল্লেখ করেছি। আপনাদের ধর্মের কোনো রকম অবমাননা হবে, অসম্মান হবে, এমন কোনো লেখা আমার পোস্টে আমি উল্লেখ করিনি। আশা করছি, আপনারা বুঝতে পেরেছেন। আমার পোস্টে শুধু বাস্তবটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সজিব বিশ্বাস বলেন, ‘বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে যে ধরনের কটাক্ষ ও অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। গত বছরও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল এবং তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে এ ধরনের ধর্ম অবমাননার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই এবার আমরা প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে প্রক্টর বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করার দাবি জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।’

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তু দাস বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ, এ দেশ আমাদের সবার। কোনো ধর্মের প্রতি বিদ্বেষমূলক বা অবমাননাকর মন্তব্য কখনোই কাম্য নয়। মোতাসিম বিল্লাহর ফেসবুক পোস্টে সনাতন ধর্ম সম্পর্কে করা মন্তব্যগুলো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমি মনে করি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ধর্মীয় অবমাননা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর সাহস না পায়।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোতাসিম বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি সরল মনে ফেসবুকে পোস্টটি দিয়েছিলাম। যখনই আমি বুঝতে পারি যে অমুসলিম ভাই ও বোনেরা কষ্ট পেয়েছেন, তখনই পোস্টটি ডিলিট করে ক্ষমা চেয়ে দুটি পোস্ট করেছি। আমি আসলে বিষয়টি নিয়ে অনুতপ্ত। আজ স্মারকলিপি দেওয়ার কথা শুনে অনেক খারাপ লাগল। আমি ক্ষমা চাওয়ার পরও ভাইয়েরা কেন জানি ক্ষমা করছেন না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টটি ডিলিট করিয়েছি। প্রক্টর স্যারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

কুবিতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের দাবি

বিস্তারিত কমেন্টে