যশোরের মণিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হতদরিদ্র যুবক মো. আব্দুল মমিনের চিকিৎসায় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন। উন্নত চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে না পেরে অসহায় অবস্থায় দিন কাটানো মমিনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ১০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান দিয়েছেন।
জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের কোদলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মমিন (পিতা: রমজান আলী) প্রায় চার বছর আগে অগ্নিদগ্ধ হয়েও প্রাণে বেঁচে যান। এর মধ্যে ১৫ দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
কিন্তু মমিনের বাবা রমজান আলী একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র মানুষ। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য তাঁর নেই। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।
এ অবস্থায় অসহায় পরিবারটির দুরবস্থার বিষয়টি মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেনের নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মমিনের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান মঞ্জুর করেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইউএনওর পক্ষে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা কৃষ্ণগোপাল মুখার্জী আহত মমিনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মণিরামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. সাইদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) উদ্যোক্তা মো. আনোয়ার হোসেন এবং ইউনিয়ন দফাদার ইদ্রিস আলী।
আর্থিক সহায়তা পেয়ে মমিনের পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। পাশাপাশি অসহায় মানুষের দুর্দশায় দ্রুত সাড়া দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেনের প্রতি ধন্যবাদ জানান তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, এই সহায়তা মমিনের চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।
kalprakash.com/IM