ইস্তাম্বুল থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক বোস্তানজিলার তাবহানেসি মসজিদ পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। ইয়েদেকচিলার মসজিদ নামেও পরিচিত স্থাপনাটি তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সারায়বুর্নু এলাকায় পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ফাতিহ পৌরসভা।
সুলতান সুলায়মান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের শাসনামলে প্রাসাদের অসুস্থ উদ্যানকর্মীদের সেবার উদ্দেশ্যে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। তোপকাপি প্রাসাদের সমুদ্রপ্রাচীরের বাইরে সারায়বুর্নু ও আহিরকাপির মধ্যবর্তী এলাকায় এর অবস্থান ছিল। ১৯৫০-এর দশকে উপকূলীয় সড়ক নির্মাণের সময় মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়।
ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে মসজিদটি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে ফাতিহ পৌরসভা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্থাপনাটি নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। একই সঙ্গে উসমানীয় প্রাসাদসংলগ্ন এলাকার দৈনন্দিন জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এটি।
১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সারায়বুর্নুর উপকূলরেখা ও নগরকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনে। এতে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি ঐতিহাসিক ভূদৃশ্যও বদলে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ওই সময়ে উপকূলীয় এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে মসজিদটি অন্যতম। ঐতিহাসিক আলোকচিত্রের সাহায্যে এর আগের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
ফাতিহ পৌরসভার মেয়র মেহমেত এরগুন তুরান বলেন, বোস্তানজিলার তাবহানেসি মসজিদটি ছিল ইস্তাম্বুলের সমুদ্রপ্রাচীরের ঠিক বাইরে অবস্থিত একমাত্র মসজিদ।
তিনি বলেন, উস্কুদার থেকে কিংবা সমুদ্রপথে ইস্তাম্বুলে আসার সময় সবার আগে এই মসজিদের মিনার চোখে পড়ত। তবে ১৯৩০-এর দশক থেকেই স্থাপনাটি জরাজীর্ণ হতে শুরু করে। ১৯৪০-এর দশকে এর মিনার ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে উপকূলীয় সড়ক নির্মাণের সময় মসজিদটি সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়।
মেয়র আরও বলেন, প্রায় ১০০ বছর পর হলেও মসজিদটি আবার ইস্তাম্বুলের বুকে ফিরিয়ে আনতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। বিভিন্ন নথিতে মসজিদটির অসংখ্য আলোকচিত্র রয়েছে। মানচিত্রেও এর অবস্থান চিহ্নিত করা আছে। পাশাপাশি বিভিন্ন খোদাইচিত্রেও মসজিদটির চিত্র পাওয়া যায়।
পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা তুলে ধরে মেহমেত এরগুন তুরান বলেন, পুনর্নির্মাণ করা মসজিদগুলোর জন্য সরকারি অর্থ ব্যবহার করা হয় না। এসব কাজ দাতাদের অর্থায়নে সম্পন্ন হয়।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত আটটি মসজিদের পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে একই ধরনের আরও ১০টি মসজিদ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।
সূত্র: ডেইলি সাবাহ
kalprakash.com/IM