ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের ফল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে যাচ্ছে। ফলে তাঁর পক্ষে আবারও সরকার গঠন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোতের নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৫২টি আসন। আরব জোট পেতে পারে ১৮টি আসন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৬৪টি আসন পেয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা কমে ৫০-এ নেমে আসতে পারে। ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।
বুথফেরত জরিপের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, আইজেনকোতের জোট আরব জোটের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে আইজেনকোত জানিয়েছিলেন, আরবদের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করবেন না। ফলে বিরোধীদের সরকার গঠন নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে হলে আইজেনকোত ও তাঁর জোটকে নির্বাচনের আগে দেওয়া অবস্থান থেকে সরে এসে আরব জোটের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডোভ ওয়েক্সম্যান আলজাজিরাকে বলেন, বুথফেরত জরিপের তথ্য সঠিক হলে নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, একক দল হিসেবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে। তবে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা ২০২২ সালের ৬৪ থেকে কমে ৫০-এ নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিবর্তনই নেতানিয়াহুর পক্ষে পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন করে তুলেছে।
দল হিসেবেও লিকুদ পার্টির আসন কমতে পারে। গত নির্বাচনে দলটি এককভাবে ৩২টি আসন পেয়েছিল। এবার তা কমে ২৫টিতে দাঁড়াতে পারে বলে বুথফেরত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আরেক বিশেষজ্ঞের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান না হলে কয়েক মাসের মধ্যে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচন হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ইহাব জাবলিন আলজাজিরাকে বলেন, বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও বিরোধীদের জন্য সরকার গঠন সহজ হবে না। বিরোধীরা আলোচনার মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
এদিকে, বুথফেরত জরিপের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গাদি আইজেনকোত। তিনি বলেন, ফলাফল সঠিক হলে তা স্পষ্ট করে যে জনগণ নেতানিয়াহুর সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কোনো জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে নেতানিয়াহুকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু আরও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এমনকি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা।
সূত্র: আলজাজিরা
kalprakash.com/IM