ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে অর্থ জোগানোর অভিযোগ ওঠা আওয়ামী লীগ নেতা ফাহাদ খন্দকার এখন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা টিটু খন্দকারের ছোট ভাই ফাহাদ খন্দকার গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
গত ৫ আগস্টের আগে দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দেখিয়ে আইটি ব্যবসার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া, বিরোধী দলের লোকজনকে হয়রানিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার সায়েন্স ল্যাব এলাকায় তিনি তাঁর একটি বাণিজ্যিক কার্যালয়ের আড়ালে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে উসকানি দেওয়াসহ সরকার পতনের নানা ষড়যন্ত্রের ছক কষেছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের নারাঙ্গল গ্রামের আবুল বাশার খন্দকারের দুই ছেলে ওয়াদুদ খন্দকার টিটু ও ফাহাদ খন্দকার দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ২০২১ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে টিটু খন্দকার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের অভিযোগ, পতিত স্বৈরাচারী দল আওয়ামী লীগের দোসর, কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অর্থ সরবরাহকারী ও শিক্ষার্থীদের প্রতিহতের ঘোষণাদানকারী ফাহাদ খন্দকার এখনো আধিপত্য বজায় রেখে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকার শাহবাগ ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিহত করার আন্দোলনের নেপথ্যে অর্থ সহায়তা দেন। এমনকি ২০২৪ সালের ২ ও ৩ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করতে বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিজ উদ্যোগে ঢাকায় নিয়ে নিজের অফিসে রেখে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাসহ ছাত্র-জনতাকে হত্যার ছক এঁকেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। সমন্বয়কদের ভাষ্য, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পরেও আন্দোলনবিরোধীদের হামলায় সহায়তাকারী ও অর্থ জোগানদাতা এই আওয়ামী লীগ নেতা শত শত শহীদের রক্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাপটের সঙ্গেই ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন এবং প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপিতে যোগদানের নামে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য গোপনে কাজ করে চলেছেন বলেও তাঁদের অভিযোগ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রাতুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার ৫ আগস্টের পর পালিয়ে গেছে। এই ফ্যাসিবাদী সরকারের অন্যতম দোসর, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের প্রতিহত করতে চাওয়া ও অর্থ জোগানদাতা নেতারা এখনো বহাল তবিয়তে প্রকাশ্যে তাঁদের ব্যবসা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক এবং ভয়ের কারণ। আমরা মনে করি, কেউ কেউ বিএনপিতে যোগদান করে তাদের ছত্রচ্ছায়ায় ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কীভাবে ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠা করা যাবে, কীভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করা যাবে, তাঁরা ঠান্ডা মাথায় সেটার পরিকল্পনা করে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফাহাদ খন্দকারের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান মিজান বলেন, ফাহাদ খন্দকার সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তাঁকে চেয়ারম্যান পদে এখনো বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। দল থেকে যাঁকে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে, তিনিই হবেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী। আওয়ামী লীগ নেতা ফাহাদ খন্দকার কীভাবে বিএনপিতে যোগদান করলেন, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপিতে যোগদান করতে পারবেন না, এমন কোনো নির্দেশনা নেই। ফাহাদ খন্দকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে অর্থের জোগানদাতা ছিলেন কি না, তাও তিনি জানেন না বলে জানান।
kalprakash.com/IM