রাজধানীর খিলগাঁও দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বাসা থেকে মুহাম্মদ শাহবাজ (২৬) নামে এক পাকিস্তানি নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে উদ্ধার হয়েছে শাহ আলম (৫৩) নামে আরেক ব্যবসায়ীর মরদেহ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে দুটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ জুবায়ের জানান, দক্ষিণ বনশ্রীর এফ ব্লকের ৯/৫ নম্বর রোডের ৩৮ নম্বর বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন ওই পাকিস্তানি নাগরিক। তাঁর বাড়ি পাকিস্তানের মুলতান জেলার জামালপুর থানা এলাকায়। বাবার নাম নাজির আহমেদ। পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন শাহবাজ। তিনি বাংলাদেশি আদিবাসী এক তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন। তাঁকে নিয়েই বনশ্রীর বাসায় থাকতেন। তবে কিছুদিন আগে তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান।
এসআই জানান, স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে শাহবাজ দুই দিন আগে সাতক্ষীরা গিয়েছিলেন। তবে আনতে ব্যর্থ হন। পারিবারিক এসব কারণে তিনি সোমবার রাতের যেকোনো সময় রুমের দরজা বন্ধ করে নিজের জীবন শেষ করে দেন বলে পুলিশের ধারণা। খবর পেয়ে সোমবার রাত ৩টার দিকে ওই বাসার দরজা ভেঙে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে সুরতহাল প্রতিবেদনে ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল আহমেদ জিন্নাহ উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার ভোরে ধানমন্ডির ৩ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে নিজের বিছানার ওপর থেকে শাহ আলমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, শাহ আলম ব্যবসায়ী। সোমবার রাত ১২টার দিকে বাসায় ফিরে খাবার খেয়ে নিজের রুমে যান। আধা ঘণ্টা পর কাজের মেয়েকে ডেকে পানি দিতে বলেন। তবে কাজের মেয়ে পানি নিয়ে যাওয়ার পর তিনি পানি না খেয়ে জানান, তাঁর বুকে ব্যথা অনুভব হচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পরই নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে কাজের মেয়ে বাড়ির ম্যানেজার ও দারোয়ানকে জানালে তাঁরা থানায় খবর দেন। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
kalprakash.com/IM