সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ | ৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ৭ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:৩৪:১৭
শিরোনাম
● চার দিনে ৪০০ কোটি ছাড়াল রজনীকান্তের জেলার ২ ● উইগম্যানের সঙ্গে নতুন চুক্তি করল ইংল্যান্ড ● জিম্বাবুয়ের কাছে হার, আইসিসি থেকে দুঃসংবাদ পেল বাংলাদেশ ● পূজার ছুটিতে মেট্রো রেলের সূচিতে পরিবর্তন ● মসজিদুল হারামের ক্লিনার ছিলেন নজরুল, মায়ের সঙ্গে সর্বশেষ কথা ১১ অক্টোবর ● স্বীকৃতি চেয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে সন্তানসহ নারীর অবস্থান ● বান্দরবানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ● নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে গোসলে নেমে ১২ বছরের শিশুর মৃত্যু ● বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে নাটোরের জেলা প্রশাসক ● পাবনায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলচালক নিহত ● চার দিনে ৪০০ কোটি ছাড়াল রজনীকান্তের জেলার ২ ● উইগম্যানের সঙ্গে নতুন চুক্তি করল ইংল্যান্ড ● জিম্বাবুয়ের কাছে হার, আইসিসি থেকে দুঃসংবাদ পেল বাংলাদেশ ● পূজার ছুটিতে মেট্রো রেলের সূচিতে পরিবর্তন ● মসজিদুল হারামের ক্লিনার ছিলেন নজরুল, মায়ের সঙ্গে সর্বশেষ কথা ১১ অক্টোবর ● স্বীকৃতি চেয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে সন্তানসহ নারীর অবস্থান ● বান্দরবানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ● নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে গোসলে নেমে ১২ বছরের শিশুর মৃত্যু ● বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে নাটোরের জেলা প্রশাসক ● পাবনায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলচালক নিহত

সৌদি আরবে নজরুলের শিরশ্ছেদ, কী ঘটেছিল জানাল পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৫
শেয়ার: mail
সৌদি আরবে নজরুলের শিরশ্ছেদ, কী ঘটেছিল জানাল পরিবার

সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর (শিরশ্ছেদ) করা হয়েছে। নিহত নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্বজনদের না জানিয়ে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের মক্কায় অনৈতিক কাজের অভিযোগে নজরুল ইসলামসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পরে গণমাধ্যমের খবর দেখে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন। ছেলের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। এ খবরে শোক সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা যায়, এসএসসি পাসের পর পরিবারের দারিদ্র্য দূর করতে ২০২২ সালে প্রায় ৭ লাখ টাকা ঋণ করে নজরুলকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে মক্কা নগরীর হারাম শরীফে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পান তিনি। তবে কাজের প্রায় সাত-আট মাস পর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পর কারাগার থেকে নজরুল তাঁর বাবাকে ফোন করে বন্দী থাকার কথা জানান। তবে তখন আটকের কারণ সম্পর্কে কিছু জানাননি। তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকার পর মৃত্যুর ঠিক আগের রোববার পরিবারের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় তাঁর। তখন তিনি জানান, তিনি সমস্যার মধ্যে রয়েছেন।

নজরুলের পরিবারের অভিযোগ, তিন বছরেরও বেশি সময় আটক রাখা হলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কোনো আইনি সহায়তা কিংবা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কনস্যুলেট বা পরিবারকে আগাম কোনো তথ্য না দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের বাবা-মা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত নজরুলের বাবা আবদুল বাছির ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ২০২২ সালে ৭ লাখ টাকা ঋণ করে নজরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার এক মাস পর মক্কার হারাম শরীফে সে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পায়। তবে সাত-আট মাস পর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আটকের প্রায় দেড় মাস পর নজরুল ওই দেশের জেল থেকে আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, সে কারাবন্দী। তবে কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে সে কিছু জানায়নি, আমরাও জানি না।

তিনি আরও বলেন, প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে সে কারাগারে ছিল। গত রোববার সে আমাকে ফোন দেয়। সে জানায়, সে সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এটাই তার সঙ্গে আমার শেষ কথা। গত বুধবার শুনলাম, নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। আমি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে পারি না। বাড়িতে এখন কান্নার রোল। আমার বোন আবেদা বেগম বাড়িতে এসে নজরুলের মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আমার ছেলেও গেল, বোনও গেল, সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। আমি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমার ছেলের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

তিনি বলেন, নজরুল কারাগারে থাকার সময় তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না। কিন্তু কেউ যোগাযোগ করেনি। প্রতিটি দেশের কনস্যুলেট জেলে থাকা তাদের নাগরিকদের খোঁজখবর নেয়। অথচ আমাদের দেশের কনস্যুলেট থেকে তার কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। আমরা কি দেশে বাস করছি? আমার ছেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সে কোনো আইনজীবী পেয়েছিল কি না অথবা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ হয়েছে কি না, তাও এখন বড় প্রশ্ন। আমার ছেলের মতো আর কেউ যেন এভাবে মরতে না হয়। ওই দেশে যাঁরা আছেন, তাঁদের যেন আমাদের দেশের সরকারের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, মরদেহ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনো সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে মরদেহ দেশে এসে পৌঁছালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

সৌদি আরবে নজরুলের শিরশ্ছেদ, কী ঘটেছিল জানাল পরিবার

বিস্তারিত কমেন্টে