জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তেলিহার গ্রামে সাড়ে তিন বছরের কন্যাসন্তানকে কোলে নিয়ে স্ত্রী ও সন্তানের সামাজিক স্বীকৃতির দাবিতে সাংবাদিক মাহফুজুর রহমানের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন কাজলী রানী ওরফে মারিয়া আক্তার নামের এক নারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী ধুধাইল গ্রামের কাজলী রানী প্রেমের সম্পর্কের জেরে ২০১৩ সালে গাজীপুরের একটি নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে তাঁর নাম পরিবর্তন করে মারিয়া আক্তার রাখা হয় এবং ১ লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাঁদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মারিয়া ঢাকায় বসবাস করলেও মাহফুজ সেখানে যাতায়াত করতেন। তবে গত সাত-আট মাস ধরে মাহফুজ স্ত্রী ও সন্তানের কোনো খোঁজখবর না রেখে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
পরে মারিয়া জানতে পারেন, মাহফুজ তাঁকে না জানিয়ে আবার বিয়ে করেছেন। কোনো উপায় না পেয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) তিনি সন্তানকে নিয়ে কালাই উপজেলার তেলিহার গ্রামে মাহফুজের বাড়িতে এসে অবস্থান নেন। এ সময় মাহফুজের পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভেতরে দরজা বন্ধ করে থাকেন।
অবস্থানকালে মারিয়া আক্তার বলেন, প্রেমের সম্পর্কের পর মাহফুজের কথামতো ২০১৩ সালে ধর্ম ত্যাগ করে তাঁকে বিয়ে করি। এত দিন ঢাকায় থাকলেও সাত-আট মাস ধরে সে আমাদের খোঁজ নেয় না। পরে জানতে পারি, সে আবার বিয়ে করেছে। আমি হিন্দু ধর্মের মেয়ে, পরিবারে ফিরে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে সন্তানের স্বীকৃতির জন্য আমার স্বামীর বাড়িতে এসেছি। কিন্তু তাঁর পরিবারের লোকজন আমাকে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমি আমার ও আমার সন্তানের ন্যায্য অধিকার ও স্বীকৃতি চাই।
ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামের মাহফুজুর রহমান মেয়েটিকে বিয়ে করেছে। মেয়েটি ধর্ম পরিবর্তন করে তাঁকে বিয়ে করেছে। এখন মেয়েটি ও বাচ্চাটিকে কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। একটা সুষ্ঠু বিচার গ্রামবাসী চায় এবং তা করতেই হবে।
একই গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, আগে আমরা জানতাম মাহফুজ বিয়ে করেছে, কিন্তু সে বারবার অস্বীকার করত। ১০-১২ বছর ধরে মিথ্যাচার করার পর আজ মেয়েটি সন্তান নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। সে মেয়েটি ও তাঁর সন্তানের খোঁজ নিচ্ছে না। আমরা গ্রামবাসী মিলে আপাতত মেয়েটিকে শান্ত করে বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
গ্রামের মমতাজ আলী বলেন, এত দিন লোকমুখে শুনেছিলাম, কিন্তু এখন স্বচক্ষে দেখলাম মেয়েটি বাচ্চা নিয়ে বাড়িতে এসেছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঢুকতে না দিলেও আমরা গ্রামবাসী শালিস বা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সঠিক সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, সে আমার স্ত্রী, আমি তো তাকে তালাক দেইনি। তাকে গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রী আমার বাড়িতে উঠতেই পারে। যারা এই ভিডিও প্রচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনি ব্যবস্থা নেব।
কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল আলম জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী নারীকে থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM