দুই বছরে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় আড়াই বছরেও তা দৃশ্যমান হয়নি। কয়েক দিন কাজ করে মাসের পর মাস কাজ ফেলে গা ঢাকা দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কাজ শেষ করে ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করা হোক।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বড়পুটিমারি গ্রামের ব্রিজটি প্রায় ছয় বছর আগে ফাটল ধরে ও ভেঙে পড়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়। ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। ২০২৪ সালের এপ্রিলে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিলে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ছয় মাস সময় বাড়ানো হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। বাকি এক মাসে কাজ শেষ করা সম্ভব নয়।
এই ব্রিজ দিয়ে একসময় ২০ গ্রামের ২২ হাজারের বেশি মানুষ চলাচল করত। ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহনও চলত। কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া, শিক্ষার্থীদের চলাচল ও অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতের জন্য এখন চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গায় যেতে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বাড়তি পথ ঘুরতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা ব্রিজ দিয়েই চলাচল করে। ব্রিজ ব্যবহারের উপযোগী হলে এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা ও জীবনমান বদলে যাবে।
উইকেয়ার প্রকল্পের আওতায় বড়পুটিমারি গ্রামে প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কথা রয়েছে। যশোরের মইনুদ্দিন বাঁশি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে। মাসের পর মাস কাজ ফেলে প্রতিষ্ঠানটি গা ঢাকা দেওয়ায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে এবং রডে মরিচা ধরেছে।
স্থানীয়রা জানান, আড়াই বছর আগে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খোঁড়াখুঁড়ি করে রেখে দেয়। এক সপ্তাহ কাজ করলে দুই থেকে তিন মাস উধাও হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ব্রিজের কারণে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত ঘুরে চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গায় যেতে হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এখন পর্যন্ত ব্রিজ নির্মাণের কাজ অল্পই হয়েছে। তাঁরা দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানান।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী মেজবাহুর রহমান জানান, নির্ধারিত সময়ে ব্রিজের কাজ শেষ না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
kalprakash.com/IM