শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ | ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ৪ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সকাল ১০:৪৯:১৩
শিরোনাম
● স্থানীয় সরকার নির্বাচন: অরাজনৈতিক ভোটে রাজনৈতিক হিসাব ● অমুসলিমদের উৎসবে মুসলমানদের আচরণ যেমন হবে ● ‘গুলির শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি স্বামীর লাশ পড়ে আছে’ ● যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলা, তিন শিশুসহ নিহত ৪ ● বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ, জলবায়ু ও সংঘাতে বাড়ছে ক্ষুধার ঝুঁকি ● দুর্গোৎসব শুরু আজ, প্রস্তুত দেশের পূজামণ্ডপগুলো ● বৃত্তির তথ্য ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংশোধন নিয়ে মাউশির বিজ্ঞপ্তি ● মুখ খোলা রেখে ঘুমান? জেনে নিন কী হয় ● ব্যাংক এশিয়ায় নিয়োগ, আবেদন শেষ ২৫ অক্টোবর ● ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে চাকরি, আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ● স্থানীয় সরকার নির্বাচন: অরাজনৈতিক ভোটে রাজনৈতিক হিসাব ● অমুসলিমদের উৎসবে মুসলমানদের আচরণ যেমন হবে ● ‘গুলির শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি স্বামীর লাশ পড়ে আছে’ ● যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলা, তিন শিশুসহ নিহত ৪ ● বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ, জলবায়ু ও সংঘাতে বাড়ছে ক্ষুধার ঝুঁকি ● দুর্গোৎসব শুরু আজ, প্রস্তুত দেশের পূজামণ্ডপগুলো ● বৃত্তির তথ্য ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংশোধন নিয়ে মাউশির বিজ্ঞপ্তি ● মুখ খোলা রেখে ঘুমান? জেনে নিন কী হয় ● ব্যাংক এশিয়ায় নিয়োগ, আবেদন শেষ ২৫ অক্টোবর ● ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে চাকরি, আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ, জলবায়ু ও সংঘাতে বাড়ছে ক্ষুধার ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫
শেয়ার: mail
বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ, জলবায়ু ও সংঘাতে বাড়ছে ক্ষুধার ঝুঁকি

 

আজ ১৬ অক্টোবর, বিশ্ব খাদ্য দিবস। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার সংকটে বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নিম্ন আয়ের ও ঋণগ্রস্ত দেশগুলো। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ চরম খাদ্যসংকটে রয়েছে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়া মানুষের সংখ্যা ৬৭ কোটি ৩০ লাখ।

খাদ্যসংকটের প্রভাব এখন শুধু মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তি ও ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সরকারি রাজস্ব, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রাজস্ব সক্ষমতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকেরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের চতুর্থ দিনে ‘বিপর্যয়ের মুখে খাদ্য নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং এসব সংকটের সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।

এর আগে বুধবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা নির্মূলের লক্ষ্য অর্জন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ওই সময়ের মধ্যে ৫৭টি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

ব্যাংককের বৈঠকে আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকে বারবার খাদ্যমূল্যের ধাক্কা মোকাবিলা করতে হয়েছে। যুদ্ধ, বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার সংকট, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং জ্বালানি ও সারের দামের অস্থিরতা খাদ্যবাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর চালের দাম ৫০ শতাংশ, গমের দাম ৩৭ শতাংশ এবং সয়াবিনের দাম ২১ শতাংশ বেড়েছে। এল নিনোর তীব্র প্রভাবে নাইজারে বৃষ্টিপাত ১৯৯৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ইন্দোনেশিয়ায় চরম দাবদাহও গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রদ্রিগো ভালদেসের মতে, চরম তাপমাত্রার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট কমছে। একই সঙ্গে চরম দাবদাহের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও সাহেল অঞ্চলে সরকারি রাজস্ব আয় ০.১৫ থেকে ০.৪ শতাংশ পয়েন্ট কমতে পারে। তীব্র খরার কারণে সাহেল ও পূর্ব আফ্রিকায় সরকারি ব্যয় ৩ থেকে ৪ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন স্থানীয় আবহাওয়া ও ফসলের চক্রের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় খাদ্যসংকটের ধরন ও স্থায়িত্ব জ্বালানিসংকটের চেয়ে আলাদা হতে পারে। তবে এর রাজস্বগত প্রভাব উল্লেখযোগ্য।

সংকট দেখা দেওয়ার পর ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার পরিবর্তে আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, ডিজিটাল পরিচয়পত্র, সামাজিক সুরক্ষার উপযুক্ত জনগোষ্ঠীর নিবন্ধন এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি। এতে সংকটের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এখন সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি

আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্ক বলেন, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে কেবল সাময়িক মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন পুনরাবৃত্তিমূলক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজস্বগত ঝুঁকি।

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং এল নিনোর মতো আবহাওয়াগত বিপর্যয় একই সঙ্গে খাদ্য, জ্বালানি, নৌপরিবহন ও সারের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এসব সংকটের প্রভাব পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

নাইজেল ক্লার্কের মতে, উচ্চ ঋণ, চড়া সুদের হার এবং সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে নিম্ন আয়ের ও ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

ব্যাংককের বৈঠকে সোমালিয়ার অর্থমন্ত্রী বিহি এগেহ, বুরকিনা ফাসোর অর্থমন্ত্রী আবুবাকার নাকানাবো এবং জিবুতির অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ নিজ নিজ দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

সোমালিয়ার ক্ষেত্রে একাধিক সংকটের সম্মিলিত প্রভাবকে ‘ককটেল অব শকস’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। দেশটির মোট খাদ্য ব্যবহারের ৭৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন বা ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব দেশটির খাদ্যবাজার ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে দ্রুত পড়ে।

বুরকিনা ফাসো বর্তমানে নিরাপত্তাসংকট, জলবায়ুজনিত ধাক্কা এবং সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার মতো আন্তসংযুক্ত সমস্যার মুখোমুখি।

অন্যদিকে, জিবুতির প্রায় ১৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটি শতভাগ খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে অবস্থান করায় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১২-১৩ সালে প্রতিবেশী ইথিওপিয়া ও সুদানে কৃষি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছিল জিবুতি। কিন্তু কোভিড মহামারি, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোও সংকটে পড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চারণভূমি কমে যাওয়ায় প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোতে সংঘাত বাড়ছে। ফলে জিবুতিতে শরণার্থীদের আগমনও বেড়েছে। নিজস্ব জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের খাদ্যের সংস্থান করতে হচ্ছে দেশটিকে। এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাড়ছে মানবসম্পদ হারানোর ঝুঁকি

জাতিসংঘের পশ্চিম এশিয়ার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইএসসিডব্লিউএ) নির্বাহী সচিব রোলা দাশতি জানান, সংস্থাটির ওই অঞ্চলের ২২টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে নয়টি সরাসরি সংঘাত বা সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

তিনি বলেন, খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে শুধু খাদ্যের প্রাপ্যতা নয়, তা কেনার সক্ষমতাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, পুষ্টিকর একটি খাবারের মূল্য প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।

রোলা দাশতি সতর্ক করে বলেন, খাদ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়লে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে পারে। খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকেও আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

খাদ্যসংকটের কারণে শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষা ব্যাহত হলে দীর্ঘমেয়াদে মানবসম্পদ ও সামাজিক মূলধনের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম

২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৯.২ স্কোর নিয়ে ৮৪তম অবস্থানে রয়েছে। সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষুধা পরিস্থিতিকে ‘মাঝারি’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।

সূচকে পাকিস্তান ২৫.৫ স্কোর নিয়ে ১০৬তম, ভারত ২৪.১ স্কোর নিয়ে ১০০তম এবং আফগানিস্তান ২৮.৬ স্কোর নিয়ে ১০৮তম অবস্থানে রয়েছে। এই তিনটি দেশের ক্ষুধা পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা ১০.২ স্কোর নিয়ে ৫৩তম এবং নেপাল ১৪.৫ স্কোর নিয়ে ৭২তম অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০০০ সালের তুলনায় শিশুদের খর্বকায়তার হার ৫৪.৯ শতাংশ থেকে কমে ২৪ শতাংশে নেমেছে। তবে দেশের জনসংখ্যার ৮.২ শতাংশ এখনো অপুষ্টিতে ভুগছে।

২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা নির্মূলের লক্ষ্য কঠিন

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও সংঘাত, জলবায়ুগত বিপর্যয় এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি লাখ লাখ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। ক্ষুধার মাত্রা মাঝারি পর্যায়ে থাকলেও খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির দীর্ঘমেয়াদি ধারা ব্যাহত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটটি দেশে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’ পর্যায়ে রয়েছে। দেশগুলো হলো বুরুন্ডি, চাদ, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মাদাগাস্কার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান ও ইয়েমেন। এ ছাড়া আরও ৩৬টি দেশে পরিস্থিতি গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে ৬৪৫ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৭টি দেশের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ কীভাবে দূরবর্তী অঞ্চলের খাদ্যব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে, তা-ও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ে। নিম্ন আয়ের মানুষ তখন সস্তা ও কম পুষ্টিকর খাবারের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে খাবার বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। এতে অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে। এর ফলে ফসলহানি বাড়ছে এবং খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। একাধিক সংকট পরস্পরকে আরও তীব্র করে খাদ্যব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা দুর্বল করে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম সতর্কতা ও তথ্যভাণ্ডার তৈরি, ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তা প্রদান, কৃষি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং সরকারি বাজেটে সম্ভাব্য সংকটের প্রভাব বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও জোর দিয়েছেন তাঁরা।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ, জলবায়ু ও সংঘাতে বাড়ছে ক্ষুধার ঝুঁকি

বিস্তারিত কমেন্টে