কমিকসের পাতা থেকে সিনেমার রুপালি পর্দা—সবখানেই নিউইয়র্কের প্রিয় প্রতিবেশী সুপারহিরো স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তা সর্বজনবিদিত। এবার বাস্তব জগতেই চিরস্থায়ী এক সম্মান পেল মার্ভেলের এই জনপ্রিয় চরিত্র।
১২ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার একটি রাস্তার নাম পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্পাইডার-ম্যান ওয়ে’ উন্মোচন করা হয়েছে। ফরেস্ট হিলসের আসকান অ্যাভিনিউ ও ইনগ্রাম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই সড়ক এখন থেকে ভক্তদের কাছে প্রিয় চরিত্রের স্মৃতিবিজড়িত এক নতুন ঠিকানা হয়ে উঠল।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল সদস্য লিন শুলম্যানের বিশেষ উদ্যোগে এবং নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য স্যাম বার্জারের জোরালো সুপারিশে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
১৯৬২ সালের আগস্টে ‘অ্যামেজিং ফ্যান্টাসি’-র ১৫ নম্বর ইস্যুতে প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল স্পাইডার-ম্যানের। লেখক স্ট্যান লি এবং প্রখ্যাত শিল্পী স্টিভ ডিটকোর যৌথ সৃজনশীলতায় জন্ম নেওয়া এই চরিত্র ১৯৬৩ সালের মার্চ মাসে নিজস্ব কমিক সিরিজ ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান’ পায়।
একই বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত কমিকসের সপ্তম সংখ্যায় স্পাইডার-ম্যানের ঠিকানা হিসেবে ফরেস্ট হিলস এলাকাকে যুক্ত করা হয়। পরে ১৯৮৯ সালে নিশ্চিত করা হয়, পিটার পার্কারের বাড়ি ইনগ্রাম স্ট্রিটের ২০ নম্বরে। বর্তমানে সেই বাড়ির মালিক জ্যাক শি নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেও এই চরিত্রের বিনয় ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে স্পাইডার-ম্যান কমিকসের সম্পাদক নিক লো চরিত্রটির দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরেন। আশপাশে ঘুরে বেড়ানো শিশুদের উচ্ছ্বাস দেখে তিনি মন্তব্য করেন, ১৯৬২ সালে সৃষ্ট একটি কাল্পনিক চরিত্র আজও তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে এতটা জায়গা দখল করে আছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর।
অনুষ্ঠানে স্টিভ ডিটকোর ভাতিজা মার্ক ডিটকো উপস্থিত থেকে জানান, জো সাইমন, জ্যাক কার্বি ও স্টিভ ডিটকোর সম্মিলিত ভাবনায় কীভাবে এই চরিত্র জন্ম নিয়েছিল। এটি যে এত বড় বিশ্বজনীন রূপ নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
ষাটের দশকে জন্ম নেওয়া এই চরিত্র কেবল কমিকসে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বক্স অফিসেও একের পর এক ইতিহাস গড়েছে। ২০০২ সালে টোবি ম্যাগওয়্যারের প্রথম সিনেমা থেকে শুরু করে ২০১২ সালে অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান’ এবং সাম্প্রতিক সময়ে টম হল্যান্ড অভিনীত মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’—প্রতিটি সংস্করণই দর্শকের বিপুল ভালোবাসা পেয়েছে।
কাল্পনিক জগতের সুপারহিরোকে সম্মান জানাতে বাস্তবে রাস্তার নামকরণের ঘটনা বিশ্বজুড়ে স্পাইডার-ম্যানের ভক্তদের মধ্যে নতুন উন্মাদনা ও আনন্দের জোয়ার সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
kalprakash.com/IM