পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে প্রাণ হারিয়েছে ২৭ শিক্ষার্থী ও এক নারী শিক্ষক। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১৯ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
বুধবার পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকার আল খায়ের স্কুলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর নিহতের সংখ্যা প্রথমে ১৭ জন জানানো হলেও পরে তা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়ায়।
লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম ডনকে জানান, এ ঘটনায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ১৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফাইজি জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির ডনকে জানান, স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ছিল। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। আটকে পড়াদের উদ্ধারে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এর আগে লেডি রিডিং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
স্কুলটির ছাদ ধসের খবর পেয়ে সন্তানদের খোঁজে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সামিউল্লাহ নামের এক অভিভাবক। ডনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে আট বছরের কম বয়সী তিনটি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেন তিনি।
সামিউল্লাহ বলেন, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে বাড়ি থেকে ফোন পেয়ে খবরটি জানতে পারেন। এর প্রায় ১০ মিনিট পর, সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তিনি। তাঁর ছয় সন্তান ওই স্কুলে পড়াশোনা করে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনের অবস্থা দেখে নিজের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়ে যান তিনি। সামিউল্লাহ বলেন, ‘ভবনটি দেখে আমার মনে হয়েছিল, আমার ছেলেও মারা গেছে।’
স্কুলের ছাদ ধসে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের গভর্নর ফয়সল করিম কুন্দি। তিনি দুর্ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং ছাদ ধসে পড়ার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। আহত শিশুদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি তাঁদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। ইসহাক দার বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাদের এমন প্রতিটি মৃত্যু পুরো দেশের জন্যই এক দুঃখজনক ঘটনা।’
তিনি আরও বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা, আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা এবং স্কুলগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।
kalprakash.com/IM