সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলের আল-লিথ গভর্নরেটে সবুজ ফসলের মাঠ, মাটির পথ আর সেচের পানির মিতালি গড়ে তুলেছে এক মনোমুগ্ধকর গ্রামীণ পরিবেশ। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ ওয়াদি হালিয়াহ, যা ওয়াদি আল-শাকা আল-শামিয়াহ বা উত্তরাঞ্চলীয় ওয়াদি আল-শাকা নামেও পরিচিত। তিহামা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে অবস্থিত এই উপত্যকা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই তুলে ধরে না, বরং কৃষি, ঐতিহ্য ও মানুষের জীবনযাপনের নিবিড় সম্পর্কেরও সাক্ষ্য বহন করে।
ওয়াদি হালিয়াহর বিস্তৃত কৃষিজমিতে সবুজের নানা রঙের সঙ্গে মিশে আছে উন্মুক্ত মাটির স্বাভাবিক বর্ণ। ক্ষেতের ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে মাটির পথ। গাছপালায় ঘেরা সরু খাল দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সেচের পানি। কোথাও হালকা সবুজ ফসল, কোথাও গাঢ় সবুজ গাছের সারি—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে শান্ত ও স্নিগ্ধ এক গ্রামীণ পরিবেশ। খালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো পানির ওপর ছায়া ফেলেছে। কৃষিকাজের সুশৃঙ্খল বিন্যাস আর বিস্তীর্ণ দিগন্তের উদারতা এ ভূদৃশ্যকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
ওয়াদি হালিয়াহ এই অঞ্চলের কৃষি ও ঐতিহাসিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রাচীন শহর আল-সিরিন অবস্থিত লোহিত সাগরের তীরবর্তী এই উপত্যকার মোহনাসংলগ্ন প্লাবনভূমিতে। এর দক্ষিণে রয়েছে ওয়াদি উলাইবের মোহনা, যা শাকা আল-ইয়ামানিয়াহ বা দক্ষিণাঞ্চলীয় ওয়াদি আশ-শাকা নামে পরিচিত।
উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে বিস্তৃত কৃষিজমি মাটির পথ দিয়ে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। ক্ষেতের সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা গাছ, সেচের খাল ও চাষের জন্য প্রস্তুত করা জমি—প্রতিটি দৃশ্যই যেন কৃষিজীবনের একেকটি গল্প তুলে ধরে। প্রকৃতি ও মানুষের শ্রমের সমন্বয়ে এখানে গড়ে উঠেছে এক স্বতন্ত্র কৃষিনির্ভর পরিবেশ।
এই উপত্যকার কৃষিজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো পানি ব্যবস্থাপনা। সেখানকার সেচব্যবস্থার মাধ্যমে চাষের জমির বিভিন্ন অংশে পানি পৌঁছে দেওয়া হয়। জমি প্রস্তুত করা, ক্ষেতকে বিভিন্ন ভাগে বিন্যস্ত করা, সেচের পথ তৈরি এবং কৃষিকাজের সুবিধার্থে চলাচলের রাস্তা রাখা—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে পরিকল্পিত শ্রমের ছাপ।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কৃষিজীবন ও ঐতিহাসিক ভূপ্রকৃতির সমন্বয় ওয়াদি হালিয়াহকে গ্রামীণ পর্যটনের সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে তুলে ধরতে পারে। এখানে দর্শনার্থীরা শুধু সবুজ মাঠের সৌন্দর্য উপভোগই করবেন না, বরং তিহামা অঞ্চলের কৃষিকাজ, পানি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে এ ধরনের পর্যটনের বিকাশে ফসলের ক্ষতি এড়ানো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় ঐতিহ্য তুলে ধরা গেলে তা একদিকে ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়তা করবে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশেও ভূমিকা রাখতে পারে।
kalprakash.com/IM