বেনাপোল স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সুশীল সমাজ, স্থানীয় বাসিন্দা ও জমির মালিকদের সঙ্গে গণশুনানি এবং জনমত যাচাই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় বেনাপোল চেকপোস্টে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত বেনাপোল স্থলবন্দর কার্যালয়ের সভাকক্ষে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘অ্যাক্সিলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (একসেস)-বাংলাদেশ ফেজ-১ (বিএলপিএ কম্পোনেন্ট)’ প্রকল্পের আওতায় এ জনমত যাচাই সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার। এই বন্দরের আধুনিকায়ন ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সংযোগ বৃদ্ধিতে একসেস প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি পরিবেশের যেন কোনো ক্ষতি না হয় এবং স্থানীয় অধিবাসীরা যেন কোনো ক্ষতির মুখে না পড়েন, সেদিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সবার মতামত বিবেচনা করেই এই পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হবে।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন। সভাপতিত্ব করেন যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমান।
কর্মকর্তারা বলেন, বিশ্বমানের বন্দর সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন বজায় রাখাই এ সভার মূল উদ্দেশ্য।
সভায় অংশ নেওয়া স্থানীয় জমির মালিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তাঁদের বিভিন্ন মতামত ও দাবি তুলে ধরেন। জমির মালিকরা বলেন, জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত ও সঠিক বাজারমূল্যে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে যাঁরা বসতবাড়ি বা কৃষিজমি হারাচ্ছেন, তাঁদের টেকসই পুনর্বাসন এবং প্রকল্পের কাজে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জোর দাবি জানান তাঁরা।
সভায় প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট পরামর্শক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এতে বন্দরের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, পণ্য খালাসের সময় কমানো এবং পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাসের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
গণশুনানিতে বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কাস্টমস প্রতিনিধি, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
kalprakash.com/IM