বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকারকে ঘিরে পুরোনো যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। ২০০৯ সালে ‘হর্ন ওক প্লিজ’ সিনেমার শুটিংয়ে যৌন হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন তিনি। নানা পাটেকারের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তনুশ্রী বলেন, ‘যে চলে গেছে, সে চলে গেছে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়ায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে মারা যান নানা পাটেকার। এ সময় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লখনউয়ে যাওয়ার পথে ছিলেন তনুশ্রী দত্ত। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি জানান, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন সংবাদমাধ্যম তাঁর কাছে পুরোনো অভিযোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইবে।
পরে লখনউয়ে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তনুশ্রী বলেন, এ বিষয়ে তাঁর আলাদা করে কিছু বলার নেই। ওই দিনটি আয়োজকদের অনুষ্ঠান সফল করার জন্য এবং তিনি সেদিকেই মনোযোগ দিতে চান। এরপরই তিনি মন্তব্য করেন, ‘যে চলে গেছে, সে তো চলেই গেছে।’
তবে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি নিজের অতীত অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন তনুশ্রী। তাঁর অভিযোগ, অভিযোগ সামনে আনার পর দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে হয়রানি ও চাপের মুখে থাকতে হয়েছে। মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
২০০৯ সালের ওই ঘটনার অভিযোগ ঘিরে ২০১৮ সালে ভারতে ‘মি টু’ আন্দোলনের সময় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ২০১৯ সালে পুলিশ নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে মামলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে তনুশ্রী দাবি করেন, তাঁকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।
তনুশ্রীর আরও অভিযোগ, মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে আদালতে বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। তাঁর দাবি, সাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজ্ঞাতপরিচয় নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হতো এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। মামলার প্রক্রিয়া কীভাবে এগিয়েছে, সে বিষয়ে তনুশ্রীর বক্তব্য ও পুলিশের সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
নানা পাটেকারকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তনুশ্রী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন। একই সঙ্গে অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কারণে তাঁকে যে মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সে কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নানা পাটেকারের মৃত্যুর পর তনুশ্রী দত্তের এই মন্তব্য নতুন করে বিনোদনজগতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যে উত্থাপিত হয়রানি ও হুমকির অভিযোগগুলোকে সংশ্লিষ্ট নথি ও স্বাধীন সূত্রের ভিত্তিতে আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।